মেইন ম্যেনু

জীবননগরে সবজি বীজ উৎপাদন করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাচ্ছেন চাষীরা

শামীম রেজা, জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। এদেশের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬৫ ভাগ মানুষই কোন না কোন ভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদান শতকরা প্রায় ৩৪ ভাগ। কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনের হার বৃদ্ধি,উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের জন্য এবং কৃষি ক্ষেত্রে কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও তার প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

কৃষিতে জীবননগর উপজেলার সর্বত্রই ব্যাপক ভাবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না হলেও কৃষকেরা তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার দিন দিন তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন সাধন করছেন। অন্যদিকে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভাবে অবদান রাখছেন। কৃষিতে ভাল ফলনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ভাল মানের বীজের ব্যবহার। যে কৃষক যত ভাল মানের বীজ ব্যবহার করবে তিনি বেশী ফলন লাভ করবেন। ভাল ভাবে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে ভাল বীজের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে উন্নত বীজ প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই।

কৃষি প্রযুক্তিবিদরা ভাল বীজকে একটি দোতলা বাড়ীর সাথে তুলনা করেছেন। একতলা থেকে দোতলায় উঠতে যেম সিঁড়ির প্রয়োজন হয়। একই ভাবে ভাল বীজের জন্য কিছু প্রযুক্তিগত কৌশল অবলম্বণ করতে হয়। কৌশলগুলো হচ্ছে-জাত উন্নয়ন,বীজ পরিবর্ধন,বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ,মান নিয়ন্ত্রণ ও বীজ সংরক্ষণ ইত্যাদি বাস্তব সম্মত কিছু কৌশল অনুশীলন একজন কৃষকের জন্য অপরিহার্য্য। আর সে সুযোগ পেলেই তারা কাংিখত লক্ষ্যে পৌছে যাবে।

কৃষি কাজ একজন কৃষকের জন্য সহজ ব্যাপার হলেও বীজ উৎপাদন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভাল ও মান সম্মত বীজ উৎপাদনে অবশ্যই কারিগরি দক্ষ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু জীবননগর উপজেলা চাষীদের মধ্যে বীজ উৎপাদনে সম্যক ধারণা না থাকলেও তারা সব বাধাকে উপেক্ষা করে কৃষকদের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি বীজ উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন । সবজি বীজ উৎপাদন করে কৃষকেরা তাদের ভাগ্যের চাঁকা ঘুরাতে পারছেন। একই সাথে তারা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছেন। চাষীদের আধুনিক প্রযুক্তি না থাকলেও তারা কৃষি বিভাগের নিকট পরামর্শ নিয়ে কোন প্রযুক্তি ছাড়াই নিজেরা বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ উৎপাদন করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলার মিনাজপুর, বাঁকা, কাটাপোল, মাধবপুর, আন্দুলবাড়ীয়া, কাশিপুর, বৈদ্যনাথপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশী সবজি বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে চলতি বছর সবজি বীজের দাম অনেক কমে যাওয়ায় চাষীদের মধ্যে এক প্রকার হতাশা কাজ করছে।

জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী আব্দুস সালেক জানান, সবজি চাষের পাশাপাশি সবজি উৎপাদন ব্যাপক ভাবে লাভজনক হওয়ায় চাষীদের মধ্যে দিন দিন সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সবজি বীজ উৎপাদন করে অনেক কৃষক ভাগ্যের চাঁকা ঘুরিয়েছেন। সবজি বীজ উৎপাদনে কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এবং বীজ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেয়াসহ বাজারজাতকরণে নীতিমালা সৃষ্টি করা গেলে বীজ উৎপাদন হতে পারে একটি শিল্প আর এ শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির পথ সুগম করতে পারে।

জীবননগর উপজেলার চাষীরা লাউ, শিম, বেগুন, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, করলা, আলু, মিষ্টি কুমড়া,বরবটিসহ প্রায় ১০-১২ জাতের সবজি উৎপাদন করে থাকেন। চাষীদের উৎপাদিত বীজ এলাকার চাহিদা পূরণ শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। জীবননগর উপজেলার চাষীদের উৎপাদিত বীজের দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক সুনমাও রয়েছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা জানান, উপজেলার চাষীদের নিকট সবজি বীজ উৎপাদন অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ উৎপাদিত হয়ে থাকে। সবজি বীজ উৎপাদন করে অনেক চাষী আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।