মেইন ম্যেনু

জীবনে কোনদিন সেক্স অবজেক্ট হয়ে দেখেছেন? অনুভূতিটা বোঝেন?

বিথী হক: জীবনে কোনদিন সেক্স অবজেক্ট হয়ে দেখেছেন ? প্রেম নাই, ভালবাসা নাই, মন নাই, শুধু শরীর দিয়ে শরীরকে কাছে আসতে দেখেছেন? কষ্টটা বোঝেন? অনুভূতিটা বোঝেন?

একটু-আধটু মন খারাপ তো সবারই হয়, সবাই কখনো না কখনো ভেঙ্গে পড়েন, হতাশ হন, প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে বাঁকা হন। কিন্তু তারা আত্মহত্যার কথা কদিন ভাবেন?

বিষয়গুলো এতো সহজ নয় কিন্তু। যেখানে একবার গেলে আর কখনো ফেরা যায় না সেখানে আপনি আমি আমরা কেউই স্বেচ্ছায় চলে যেতে চাই না। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনেও বাঁচার জন্য মানুষ কত ছটফট করে। সেই জীবন কি আপনি আমি এতো সহজে নষ্ট করতে চাই?

আপনারা কি বোঝেন, দাঁড়িপাল্লায় জীবন আর কষ্ট দুপাশে রেখে কষ্টের পাল্লা কতোটা ভারী হলে একটা মানুষ আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়! এই অভিজ্ঞতা যাদের হয়নি তারা কখনো বুঝবেন না একটা মানুষ কিভাবে প্রত্যেকটা মুহুর্তে ভগ্নাংশে পরিণত হতে থাকে, নিজের ভেতরের আত্মা কিভাবে প্রতিনিয়ত মরে যেতে থাকে।

এসব বলে আমি আত্মহত্যার বৈধতা দিতে আসিনি। আবেগের কাছে পরাস্ত হয়ে একজন আত্মহত্যা করেছে তাও সেক্সুয়ালি এ্যাবিউজড হয়ে। আপনাদের একবারও মনে হয় না এরকম একটা সিদ্ধান্তের পেছনে নিশ্চয়ই ছোটখাটো কোনো কারণ নাই, তার ভেতরের মানুষটা সহ্য করতে না পেরে তার আত্মহত্যার অনেক আগেই মরে গেছে !

এটা রেপের চেয়ে কি কোন অংশে লঘু? যে কাছে আসে, সে তো ভালবেসেই আসে, আপনাকে গুরুত্ব দেয় বলেই আসে। আপনার ভালবাসা নাই, শরীরের প্রয়োজনে একজনকে আপনার স্বার্থে ব্যবহার করছেন, কিন্তু অপরজনের তো আপনার প্রতি টইটম্বুর প্রেম, আপনার জন্য সে নিজের সর্বস্ব ঢেলে আপনাকে সুখী করতে চাইছে, ভালবাসা ভেবে তার অজান্তেই সে আপনার দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে, এটা কি সে জানে! আপনি কি একবারও ভেবেছেন, আপনি তাকে ঠকাচ্ছেন! সম্পর্কে কমিটমেন্টে যাবার রসদ না থাকলে যাবেন না, জড়ানোর আগেই সে বিষয়ে কথা বলে নেন। কমিটমেন্টে যাবার পরে হঠাৎ করে ইচ্ছে হলেই তাকে পরিত্যক্ত ভাবতে পারেন না, ইচ্ছে হলেই তাকে ছেড়ে পুরনো প্রেমিকার প্রতি উথলে ওঠা প্রেম ঝোলায় ভরে তার জীবন লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে স্বার্থপরের মতো নিজেকে নিয়ে ভেগে যেতে পারেন না। আপনার দায় কিন্তু থেকেই যায়।

সবাই যে আত্মহত্যা করে সমাধান টানেন এমন তো নয়, কতজনকেই দেখেছি নিরঙ্কুশ ক্ষমা করে দিব্যি কষ্ট চেপে বেঁচে আছে। তাদের কথা আপনি বা আপনারা জানেন না, কারণ তারা বেঁচে আছে, হার মেনে আত্মহত্যা করেননি। আর যারা আত্মহত্যা করে তাদের নিয়ে আপনাদের বিশাল এনালাইসিস।

সে কয়জনের সঙ্গে শুয়েছে, কয় বয়াম ইয়াবা খেয়েছে, কয়টা স্লিভলেস জামা পরেছে, কয়বার ক্লিভেজ দেখা গেছে, কয়টা প্রেম করেছে ইত্যাদি এবং ইত্যাদি! আপনাদের কথা শুনে মনে হয় ছেলেটা গুটিশুটি মেরে শুয়ে ছিল, আর মেয়েটা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সেক্স করেছে, এখানে তাই ছেলেটা নেহাতই নিষ্পাপ বৈ অন্য কিছু হতে পারেন না।

ছেলেটা ছেলে হবার সুবাদে আবারো ধ্বজাধারী সমাজের বিকলাঙ্গ মানুষগুলোর কাছে শুধুমাত্র পুরুষ হয়ে থেকে গেলেন, নি:সন্দেহে তার কোন অপরাধ নাই।

দয়া করে এইবেলা কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করেন। মিনিমাম মনুষ্যত্ববোধ থেকে থাকলেও একটু সহানুভূতিশীল হোন।

যে চলে গেছে সে তো বেঁচেই গেছে, এভাবে তাকে টেনে নোংরা আলাপ বন্ধ করে তার পরিবারকে একটু বেঁচে থাকতে দেন। মানুষ হারানোর কষ্ট নাকি আপনাদের কথার বাণ, কোন শোকটা নিয়ে বাঁচবে তার পরিবার? একসঙ্গে এতো ভার চাপিয়ে কষ্টের বোঝা না বাড়ালেই কি নয় ? এসব কথাবার্তা বাদ দিয়ে বরং দেখেন এমন ঘটনা আর কোন মানুষের সঙ্গে যেন না ঘটে।

সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সমাধান করাটা জীবনের সবচেয়ে বড় অ্যাডভেঞ্চার, এই অ্যাডভেঞ্চারগুলোর জন্যই বেঁচে থাকা এতো অর্থবহ।