মেইন ম্যেনু

জেএমবি সদস্য আমজাদ আলীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবি সদস্য আমজাদ আলীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) এ আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হাতেম আলী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট এ মামলার আসামি মাসুমুর রহমান মাসুম, আতাউর রহমান সানী ও আমজাদ আলীকে ফাঁসির সাজা দেন লক্ষ্মীপুরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বিস্ফোরক ও হত্যা মামলায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সে রায়ের বিরুদ্ধে আমজাদ আলী হাইকোর্টে আপিল করলে শুনানি শেষে তাকে খালাস দেন আদালত। হাইকোর্টের সে রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে গত ৬ এপ্রিল আমজাদ আলীর সাজা বিষয়ে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন।

পরে আপিল বিভাগ এ আদেশ সংশোধন করে আপিল বিভাগ পুনর্বিচারের বিষয়টি প্রত্যাহার করে আমজাদ আীলর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেন। সেদিন (৬ এপ্রিল) এ মামলার অপর আসামি জেএমবি সদস্য মাসুমুর রহমান ওরফে মাসুমকে মৃত্যুদণ্ড দেন আপিল বিভাগ।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতে বোমা হামলা করে জেএমবি সদস্য মাসুমুর রহমান ওরফে মাসুম। এ ঘটনায় ওইদিনই মামলা দায়ের করেন লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের নাজির বজলুর রহমান। এ মামলায় আমজাদ আলীও আসামি ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে বিচার চলাকালে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ওই আদালতের বিচারক এম এ সুফিয়ান, বেঞ্চ অফিসার মো. শফিকুল্লাহসহ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের মধ্য থেকে মজিবুল হক নামে এক বিচারপ্রার্থী মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ওই ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় ২০০৬ সালেল ১৫ আগস্ট মাসুম, আতাউর রহমান সানী ও আমজাদ আলীকে ফাঁসি দেন লক্ষ্মীপুরের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বিস্ফোরক ও হত্যা মামলায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। আপিল বিচারাধীন অবস্থায় অন্য মামলায় সানীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। বাকি দুজনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ মাসুমের ফাঁসি বহাল রাখেন। তবে আমজাদ আলীকে খালাস দেয়া হয়। এই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া খালাস চেয়ে আপিল করেন মাসুম। দুজনের আপিলের ওপর মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।