মেইন ম্যেনু

জেট এয়ারওয়েজের বিমান ওড়াল পাইলট ভূত! আসল গল্পটা কী?

ভূতে ওড়াল বিমান! এই ঘটানা জানাজানির পর শোরগোল পড়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দিল্লি-বেঙ্গালুরু রুটে। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন।

কয়েক মাস আগে দিল্লি-বেঙ্গালুরু-দিল্লি রুটে জেট এয়ারওয়েজের পাইলটের নাম খোঁজার সময় বিষয়টি নজরে আসে। কোথাও পাইলটের সম্পর্কে কোনও তথ্যই নেই। অথচ, জেট এয়ারওয়েজের বিমানটি দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু গিয়েছে আবার ফিরেও এসেছে। তাহলে, বিমান ওড়াল কে? চারিদিকেই ওঠে এই প্রশ্ন। কিন্তু, জানা যায়নি সেই পাইলটের নাম।

ডিরেক্টরেট অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের অনেকই বলতে শুরু করেন তাহলে ভূতে বিমান চালিয়েছিল ওইদিন? অনেকেই অবাক হয়েছিলেন এই ঘটনায়। কারণ, বিমান চালালে একজন পাইলটের রেকর্ডস তো থাকবে।

এই ভুতুড়ে কাণ্ড ঘিরে হইচই পড়ে যায়। জেট এয়ারওয়েজও কোনও তথ্য দিতে পারছিল না। জলঘোলা হতে হতে অবশেষে সামনে আসে আসল তথ্য।

জানা যায় সেই ‘ভূতুড়ে পাইলট’-কে ধরা গিয়েছে। ডিরেক্টরেট অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের তরফে জানানো হয় এই ‘ভূতুড়ে পাইলট’ আসলে একজন মানুষ। অত্যন্ত সিনিয়র এই পাইলট বিমান চালানোর উপযুক্ত কাগজ বা ‘পিপিসি’ না থাকলেও ককপিটে ছিলেন। এমনকী, একবার দিল্লি-বেঙ্গালুরু রুটে বিমানও চালিয়েছিলেন তিনি।

আসলে ‘পিপিসি’ হল ‘পাইলট প্রোফিসিয়েন্সি চেক’। বিমান ওড়ানোর জ্ঞান ‘আপ টু ডেট’ আছে কিনা, তার জন্য পাইলটদের একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা দিতে হয়। সেই পরীক্ষায় পাস করলে তবেই ‘পিপিসি’ মেলে।

‘পিপিসি’ ছাড়া বিমান ওড়ানো বরাবরই বড় সমস্যা। বহু পাইলটই ‘আপ টু ডেট’ ‘পিপিসি’ ছাড়াই বিমান ওড়ান। তবে, পরে তাঁরা ‘পিপিসি’ নিয়ে নেন।

কিন্তু, এক্ষেত্রে ওই সিনিয়র পাইলট পরে ‘পিপিসি’ পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। এতে বিপদ হতে পারে বুঝে তিনি জেট এয়ারওয়েজের বিমানের ওইদিনকার সমস্ত রেকর্ডস মুছে দেন। এর জন্য ওই পাইলট কারোর সাহায্য নিয়েছিলেন বলে মনে করছে ‘ডিরেক্টরেট অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন’। ফলে, রেকর্ডস মুছে যাওয়ায় ‘পাইলটকে ভূতুড়ে’ অ্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযুক্ত ওই সিনিয়র পাইলট আবার জুনিয়র পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও কাজ করেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে ওই পাইলট রেকর্ডস মুছলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। রেকর্ডস মুছতে কেউ সাহায্য করেছিল বলেও মনে করছে ডিজিসিএ। এই ঘটনাকে নিরাপত্তার বড় গাফিলতি বলে ধরছে তারা। ‘ব্যুরো ফর সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি’-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে ওই পাইলটের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হতে পারে। -এবেলা।