মেইন ম্যেনু

জেনে অবাক হবেন, বালিশে লুকিয়ে থাকা জীবাণুই ফুসফুস সংক্রমণের কারণ

সপ্তাহখানেক হয়ে গেল, খুকখুক কাশিটা কিছুতেই সারছে না? কাফ সিরাপে কাজ হচ্ছে না কোনও? এর জন্য কিন্তু দায়ি হতে পারে আপনার বালিশ।
– বালিশ?
হ্যাঁ। যে বালিশে রোজ মাথা রেখে ঘুমোন, সেই বালিশটাই আসল কালপ্রিট। তার আগে টেস্ট করিয়ে দেখুন, আপনি অ্যাস্পারগিল্লোসিস রোগে আক্রান্ত কি না।

– অ্যাস্পারগিল্লোসিস?
আজ্ঞে। ফাঙ্গাল সংক্রমণ হলে এই রোগ হয়। কিন্তু ফাঙ্গাসের বাস কোথায়? কোথায় আবার, বালিশে। ফাঙ্গাসের নাম অ্যাস্পারগিল্লাস ফুমিগেটাস। ফাঙ্গাসটি এতটাই হালকা, যে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। নিশ্বাসে ঢুকে গেলে সংক্রমণ তৈরি হয়।অ্যাস্পারগিল্লাস ফাঙ্গাসটি আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় মুড়ে থাকা গাছের পাতায়, জৈব সারে, এয়ার কন্ডিশনারে ও হিটারে। লফ্ট ও দেওয়ালেও এরা দল বেঁধে থাকে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় পরিমাণে বাড়ে।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হল, এরা বাসা বেঁধে থাকে বালিশে। ২০০৫ সালের একটি পরীক্ষায় ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সেই তথ্যই সামনে তুলে ধরেছিল। এই যে সর্দি হলে সারে না, খকখক খুকখুক গেলেই থাকে, এর প্রধানতম কারণ কিন্তু হতে পারে অ্যাস্পারগিল্লাস। প্রতি ৪০জন মানুষের মধ্যে অন্তত ১জন অ্যাস্পারগিল্লাসে আক্রান্ত।

এই ফাঙ্গাসটি এতটাই মারাত্মক, যে দীর্ঘদিন যাবৎ নিশ্বাসপ্রশ্বাসে প্রবেশ করতে থাকলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। অ্যাজ়মা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজ়িজ় থাকলে আরও মারাত্মক প্রভাব তৈরি হতে পারে। কাশতে কাশতে গলা থেকে রক্ত পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে পারে।প্রতি বছর অ্যাস্পারগিল্লাসের কবলে পড়ে ৭০০ও বেশি মানুষ। ফুসফুসে একটি ফাঙ্গাল বল তৈরি হয়ে যায়। যার ফলে ফুসফুস ফুলতে থাকে, টিশু নষ্ট হতে থাকে। হতে পারে মৃত্যুও।

তবে সঠিক সময় চিকিৎসা হলে মুক্তি মেলে। সেই চিকিৎসা বেশ খরচ সাপেক্ষ। প্রতিকার একটাই, নোংরা বালিশে শোবেন না। নিয়মিত ওয়ার বদলান। কাশি হলে আর আবহেলা নয়। শিগগির চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান।