মেইন ম্যেনু

জেনে নিন জাপানীদের যত অদ্ভুত কাজকর্ম!

জাপানকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভূত আর চমৎকার জায়গা। জাপানের সব ভিন্নধর্মী আর বিস্ময়কর আবিষ্কার সবসময়ই চমকে দেয় বিশ্বকে। জাপানের প্রতিটি মানুষই সৃষ্টিশীল। তাদের প্রত্যেকটি কাজে তারা যোগ করে নতুন মাত্রা, নতুন কোন আইডিয়া যা আগে আর কেউ কখনো করে নি। আসুন জাপানের সেই সব অদ্ভুৎ সংযোজন সম্পর্কে।

১। খরগোশ দ্বীপ-

খরগোশ প্রেমীরা জেনে রাখুন, জাপানে এমন একটি দ্বীপ আছে যেখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন প্রচুর খরগোশ। পুরো দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। ১০০ টিরও বেশি খরগোশ সেখানে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। আপনি সেখানে ইচ্ছামত তাদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন, খেলতে পারবেন, ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

২। চারকোণা তরমুজ-
বিশ্বাস করতে পারেন যে চিরচেনা লম্বাটে গোল তরমুজটি হতে পারে একেবারে বর্গাকৃতির? জাপানে সবই সম্ভব। এখানকার কৃষকেরা তরমুজ সংরক্ষণের সুবিধার্থে তরমুজের আকৃতিই চতুর্ভূজ করে দিয়েছেন!

৩। ভীরু জাপানী-
টাইটানিকডুবিতে বেঁচে যাওয়া একজন জাপানী নাগরিক মাসাবুমী হোসোনো। জাপানে তাকে ভীরু আখ্যা দেয়া হয়, কারণ সকল মানুষ বাঁচার চেষ্টায় জাহাজ থেকে বেরিয়ে পড়লেও তিনি বের হন নি, বরং জাহাজের ভেতরেই নিজের কক্ষে অবস্থান করেছেন।

৪। এডাল্ট ডায়পার-
জাপানে জন্মহার এতই কম যে সেখানে বাচ্চাদের ডায়পারের তুলনায় এডাল্ট ডায়পারের বিক্রী বেশী।

৫। বিড়াল ক্যাফে-
এবার সুখবর বিড়াল প্রেমীদের জন্য। জাপানে আছে ক্যাট ক্যাফে। এখানে ক্যাফের বিড়ালরা আপনাকে সঙ্গ দেবে। খেলতে খেলতে পান করবেন এক মগ দারুণ কফি।

৬। অফিসে ঘুম-
কাজ কাজ করতে করতে টেবিলে ঘুমিয়ে পড়েছেন! কি অবস্থা হবে ভাবুন তো! কিন্তু জাপানে এটা কোন বিষয়ই না। বরং সেখানে কার্যক্ষেত্রে ঘুমিয়ে পড়াকে ধরা হয় অধিক পরিশ্রমের লক্ষণ হিসেবে। এমনকি দুপুর ১টা থেকে ৪ টার মধ্যে যেকোন ৩০ মিনিট ঘুমিয়ে নিতে পারবেন আপনি।

৭। স্কুল পরিষ্কার-
জাপানে স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা মিলেই স্কুলকে পরিষ্কার রাখার কাজটি করে থাকেন। কারণ সেখানে স্কুল পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আলাদা কোন লোক রাখা হয় না!

৮। দ্রতগামী ট্রেন-
জাপানের ম্যাগলেভ ট্রেন চুম্বক ব্যাবহার করে দ্রুত গতিতে পথ পাড়ি দেয়। এটি ঘন্টায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে চলে। বলা হয় এই ট্রেনটি পৃথিবীর সবচেয়ে সময়ানুবর্তী ট্রেনের একটি। যদিও পুরোপুরি যথা সময়ে পৌছতে পারে না এটি, গড়ে ১৮ সেকেন্ড দেরী হয়!

৯। ওয়াটারপ্রুফ মোবাইল-
জাপানে ৯০ শতাংশ মোবাইল ওয়াটারপ্রুফ করে তৈরি করা হয়। কারণ দেশটির তরুণরা ফোনে সারাক্ষণই কথা বলে, এমনকি গোসলের সময়ও।

১০। পুরুষাঙ্গ এবং উর্বরতা উৎসব-
প্রতিবছর এপ্রিলের প্রথম রবিবার জাপানিরা উৎযাপন করেন পুরুষাঙ্গ এবং উর্বরতা উৎসব। যতই দিন যাচ্ছে, সিন্তো কিনামারা মাতসুরি নামের এই উৎসব জাপানে তো বটেই বিদেশী পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

১১। নামহীন সড়ক-

আমাদের দেশের প্রতিটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাথে সাথেই একটা নামকরণ করা হয়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের সব দেশেই সড়কের নামকরণ প্রচলিত, একমাত্র জাপান ছাড়া। জাপানে হাতে গোণা কয়েকটি রাস্তা বাদে কোন রাস্তারই কোন নাম নেই।

১২। ক্রাইং সুমো-
বাচ্চাদের কান্না হয়ত অনেকে সহ্যই করতে পারেন না। অথচ জাপানে প্রতিযোগিতা করে বাচ্চাদের কাঁদানো হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি জাপানে ‘ক্রাইং সুমো’ নামে একটি খেলা হয় যেখনে কুস্তিগীরদের মধ্যে বাচ্চাদের কে আগে কাঁদাতে পারবেন তাঁর উপর নির্ধারিত হয় জয় পরাজয়।


১৩। কালো বার্গার-

জাপানের বিখ্যাত বার্গার কিং রেস্টুরেন্ট একটি কালো বার্গার তৈরি করে। বার্গারটির রুটি থেকে শুরু করে এতে ব্যবহার করা পনির, সস সবই হয় কালো রঙ এর।

১৪। জাপানী নাগরিক গডজিলা-
গডজিলা সিনেমাটি আমাদের প্রায় সবারই দেখা জনপ্রিয় একটি সায়েন্স ফিকশানধর্মী চলচ্চিত্র। এই গডজিলা এখন জাপানী নাগরিক। জাপান তাকে শুধু নাগরিকত্বই দেয় নি, জাপানের সিনজুকু শহরের পর্যটন রাষ্ট্রদূতও এখন গডজিলা।

১৫। হিকিকোমোরি-
অনেক জাপানীরা নিজেদের নিজেরাই বছরের পর বছর গৃহবন্দী করে রাখেন। তরুণদের মধ্যে এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যারা ব্যার্থ্যতাকে মেনে নিতে পারেন না এবং লজ্জা, হীনমন্যতাবশত নিজেকে আড়ালে রাখতে চান ধীরে ধীরে তারা এই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। জাপানে এই রোগটির নাম হিকিকোমোরি।