মেইন ম্যেনু

জেনে নিন প্রাণঘাতী রোগ ওভারিয়ান ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ

ওভারিয়ান ক্যান্সার মহিলাদের প্রজনন তন্ত্রের প্রাণঘাতী একটি রোগ। এই রোগে মৃত্যু হার অনেক বেশি। আপনি হয়তো শুনেছেন যে, ওভারিয়ান ক্যান্সার এমন একটি অসুখ যা হচ্ছে “নীরব ঘাতক”। কিন্তু এই অসুখটিরও প্রায়ই কিছু পূর্ব লক্ষণ প্রকাশ পায়। দুর্ভাগ্যবশত এই পূর্ব লক্ষণ গুলো অন্য ক্যান্সারের সাথেও মিলে যায় এবং ডাক্তার ও এই গুলোকে বাতিল করে দেন। American Cancer Society, Society of Gynecologic Oncologists এবং Gynecologic Cancer Foundation এর মতে ওভারিয়ান ক্যান্সার সতর্কতা মূলক যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ করে তা জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। আসুন তাহলে জেনে নেই সেই লক্ষণ গুলো সম্পর্কে।

১। পেট ফাঁপা

বেশি খেলে এমনিতেই পেট ফেঁপে যায়। কিন্তু যাদের ওভারিয়ান ক্যান্সার আছে তাঁদের প্রতিদিনই পেট ফাঁপা থাকে। যদি দুই সপ্তাহ যাবত পেট ফাঁপার সমস্যায় ভুগতে থাকেন এবং সাধারণ গ্যাস রিলিফের ঔষধ খেয়েও যদি ভালো না হন তাহলে ডাক্তার দেখান।

২। কোমর বা পেটে ব্যাথা

পেট ফাঁপা থাকার পাশাপাশি কোমরে ব্যাথাও থাকতে পারে। পিরিয়ডের সময় ছাড়াও যদি শ্রোণী অঞ্চলে ব্যাথা থাকে তাহলে এটা ওভারিয়ান ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। মনে রাখবেন দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যাথা ভালো লক্ষণ নয়। তাই ডাক্তারের সাথে কথা বলে চিকিৎসা গ্রহণ করুণ।

৩। খাওয়ায় সমস্যা বা খুব তাড়াতাড়ি পেট ভরে যাওয়া

যদি অল্প একটু খাওয়ার পর বা খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই পেট ভরা অনুভব করেন এবং এটা যদি ঘন ঘন হয় তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারকে এটা জানান। পেট ভরা থাকা ক্ষুধামন্দার মত নয়। অনেক সময় একে ভুল ভাবে গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল রোগ মনে করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তার পরিবর্তন করে হলেও ভালো ভাবে ডায়াগনোসিস করা প্রয়োজন।

৪। ইউরিনারি সিম্পটম

যদি আপনার ঘন ঘন মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয় কিন্তু মূত্রের পরিমাণ কম থাকে তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। ইউরিন ইনফেকশনের সাথে এই লক্ষণের মিল আছে বলে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল চিকিৎসা করা হয়। যদি ইউরিন ইনফেকশনের এন্টিবায়োটিক গ্রহণের পরও সমস্যাটি থেকে যায় তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

এই লক্ষণ গুলোর একটি বা একাধিক লক্ষণ প্রকাশ পেলেই ওভারিয়ান ক্যান্সার হয়েছে বলা যাবেনা। যদি এই লক্ষণ গুলো এক মাস বা তাঁর বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে কিছু পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।

উপরোক্ত লক্ষণ গুলো ছাড়াও আরো কিছু সাধারণ লক্ষণ ওভারিয়ান ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন-

· অবসাদ
· বদহজম ও বুক জ্বালাপোড়া করা
· কোষ্ঠ কাঠিন্য
· পিঠে ব্যাথা
· অনিয়মিত পিরিয়ড
· বেদনাদায়ক সংসর্গ

ওভারিয়ান ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কারণ অজানা থাকলেও কিছু ঝুঁকি পূর্ণ কারণ হল-

· পাবিবারিক ইতিহাস
· জিনগত পরিবর্তন ও এর সাথে BRCA1 বা BRCA2 থাকতে পারে
· ব্রেস্ট, ইউটেরাইন বা কোলন ক্যান্সারের ব্যক্তিগত ইতিহাস
· বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ওভারিয়ান ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

এই লক্ষণ বা ঝুঁকির কারণ সমূহ থাকলেই আপনার ওভারিয়ান ক্যান্সার হবে এমন কোন কথা নেই। এই লক্ষণ গুলো না থাকলেও পরীক্ষা করিয়ে নেয়া ভালো।

চিকিৎসা –

ওভারিয়ান ক্যান্সারের চিকিৎসায় ক্যান্সার কতটুকু ছড়িয়েছে তাঁর উপর নির্ভর করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টিউমার অপসারণের ক্ষেত্রে সার্জারি করতে হয়। রেডিয়েশনের মাধ্যমেও টিউমারের চিকিৎসা করা হয়। ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের জন্য কেমোথেরাপি ও প্রয়োগ করা হয়।