মেইন ম্যেনু

জেনে নিন, প্রয়োজন বা ফ্যাশনে কন্টাক্ট লেন্স সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সম্প্রতি শিল্পী আরিফিন রুমীর ফেসবুক ওয়াল থেকে ছড়িয়ে পরে একটি সংবাদ- নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার স্ত্রী কামরুন্নেসার চোখ। খবরের সত্যতা যাচাই করে জানা যায়, কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেই তার এই সর্বনাশ, তাৎক্ষণিক চিকিৎসার বদৌলতে তার চোখ বেঁচে গেলেও এখনও চোখে ঝাপসা দেখেন তিনি।

কন্টাক্ট লেন্স ব্যববাহরে আছে আরও নানা ধরনের ঝুঁকি। লেন্স অপরিচ্ছন্ন রাখলে চোখে ইনফেকশনের ভয় থাকে। ১২ ঘণ্টার বেশি সময় এই লেন্স ব্যবহার করলে, লেন্স চোখে পরেই ঘুমিয়ে পরলে, পানিতে সাঁতার কাটলে, মেয়াদ উত্তীর্ণ লেন্স কিংবা সল্যুশন ব্যবহারে, দামের দিকে চােখ রেখে মান সম্মতা লেন্স ব্যবহার না করলে এবং সর্বোপরি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার না করলে এই কন্টাক্ট লেন্সের মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আপনার চোখ। কারণ ভুলে গেলে চলবে না, কন্টাক্ট লেন্স স্পর্শকাতর একটি ‘মেডিকেল ডিভাইস।

lanc

তবে কি লেন্স ব্যবহার না করাই ভালো? না- সাবধানতা অবলম্বন করেই চশমার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় লেন্স, ব্যবহার করা যায় ফ্যাশনের অনন্য অনুসঙ্গ হিসেবে। আজকাল প্রয়োজনের তুলনায় ফ্যাশনেই বেশি ব্যবহার হচ্ছে কন্টাক্ট লেন্স। পোশাকের রঙের সঙ্গে চোখের রঙ মিলিয়ে এসব লেন্সের ব্যবহার ব্যক্তিত্বে আনে বিশাল পরিবর্তন। তাছাড়া মুড, সময়, অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করেও ব্যবহার করা হয় রঙ বেরঙের লেন্স।

contact-lenses4

 

ফ্যাশন দুনিয়ার মডেল, শোবিজ অঙ্গনের শিল্পী কিংবা ফ্যাশন সচেতন তরুণীদের কাছে লেন্সের ব্যপক জনপ্রিয়তা। নিজেকে নান্দনিক কিংবা কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপনের ইচ্ছা থেকেই আজকাল এক রঙের লেন্সের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে হালকা ডিজাইনের লেন্স। নীল, অ্যাকোয়, হলকা সবুজ, বাদামী ইত্যাদি লেন্সের সঙ্গেই আজকাল ক্যাটস আই, ফ্লােরাল মোটিফ, জ্যামিতিক ডিজাইনের চাহিদা বাড়ছে।

b4sJZJc

 

ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল কিংবা বড় চশমার দোকানেই পাওয়া যায় কন্টাক্ট লেন্স। এখানেও রয়েছে ব্র্যান্ড ভ্যালু, আর তাই রয়েছে দামের তারমত্য। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় johnson and johnson কন্টাক্ট লেন্স। এছাড়াও acuvue, bausch + lomb, biofinity, dailies, fresh look, air optix, igel, aqua flexi ব্র্যান্ডের কন্টাক্ট লেন্স পাওয়া যায়।

johnson and johnson ব্র্যান্ডের ছয় জোড়া লেন্সের দাম ৪০০০ টাকা, এক বছরের নিশ্চয়তাদান করে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া একজোড়া লেন্সের ক্ষেত্রে মোটামুটি ১০০০ টাকা বাজেট রাখা উচিৎ, তাহলেও নিশ্চিত হবে ব্র্যান্ড। বাজারে কম দামের বিভিন্ন লেন্স পাওয়া যায়, ৫০০ টাকা থেকে দামের শুরু। কিন্তু চোখের মামলা- সাবধানতাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ।

BJgCFd4

দামে কিছুটা বেশি হলেও চোখের সুরক্ষা ও যত্নে ব্র্যান্ডের কন্টাক্ট লেন্স অনেকাংশে নিরাপদ, বাকিটা নির্ভর করে সচেতনতার উপর। তবে কন্টাক্ট লেন্স ক্রয় এবং ব্যবহারের আগে চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিন, নয়তো ফ্যাশন সচেতনতাই হতে পারে চোখের শত্রু। জেনে নিন কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের কিছু রীতিনীতি।

– সব সময়ই লেন্স পরা এবং খোলার আগে অবশ্যই হাত ভালো করে সাবান বা কোনো জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। হাত ধোয়ার পর হাত শুকিয়ে নিয়ে শুকনো হাতেই লেন্স পরতে বা খুলতে হবে।

– কন্টাক্ট লেন্স কখনোই গোসলের পানি বা অন্য কোনো পানিতে ভেজানো ঠিক না। কারণ পানিটা নিজেই সংক্রমিত হয়ে অতি ক্ষুদ্র জীবাণু লেন্সে লেগে থেকে কর্ণিয়ার আলসার সৃষ্টি করতে পারে।

– গোসল বা সাঁতারের আগে লেন্স খুলে নিতে হবে। এমনকি পানি রোধক ‘ওয়াটার-টাইট গগল্স’ চোখে পরার আগেও লেন্স খুলে নিতে হবে।

– ভুলেও কন্টাক্ট লেন্স থুতুতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না বা থুতুর সংস্পর্শে আনা যাবে না। কেননা মুখের ভেতর এবং থুতুতে বহু ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার অনেকগুলোই পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও চোখের জন্য নয়।

– চোখে আইলাইনার বা মাশকারা ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই আগে লেন্স পরে নিয়ে তারপর চোখের মেকআপ করতে হবে।

– কোন কারণে লেন্স পরার পরে চোখ যদি লালচে হয়ে ওঠে কিংবা জ্বালা-পোড়া করতে থাকে, দেরি না করে লেন্স খুলে ফেলতে হবে। চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেও দেরি করা ঠিক নয়। লেন্সের বিকল্প হিসেবে সঙ্গেই রাখা উচিৎ চশমা।

– অনলাইনে কন্টাক্ট লেন্স কেনার সুযোগ বেড়েছে। কিন্তু সাবধান, চোখের চিকিৎসকের পরামর্শপত্র অনুযায়ী উপযোগী লেন্সের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তারপর লেন্স কিনতে হবে।