মেইন ম্যেনু

জেনে নিন ব্যায়াম সম্পর্কে প্রচলিত ৬ ভুল

‘কুয়োরা’তে স্বাস্থ্যসচেতনরা প্রশ্ন করলেন, শরীরচর্চা সম্পর্কে বহু দিনের প্রচলিত ভুলগুলো কি কি? এর জবাব দিয়েছেন অভিজ্ঞ পারসোনাল ট্রেইনার উইলফ্রেড পল। তিনি জানান, আমার ক্যারিয়ারে দেখেছি মানুষ বেশ কিছু ভুল ধারণা নিয়ে ব্যায়াম চালিয়ে যান। ওজন কমাতে গিয়ে এসব ভুল ধারণা তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ভুলগুলো জেনে নিন।

১. পেট কমাতে ক্রাঞ্চ : বহু দিনের ধারণা যে, ক্রাঞ্চ পদ্ধতিতে পেটের চর্বি কমিয়ে আনা যায়। সবাই মনে করেন এর মাধ্যমে প্রচুর ক্যালোরি কমে আসে। আসলে সংকোচনের মাধ্যমে খুব বেশি উপকারিতা মেলে না। ক্রাঞ্চের মাধ্যমে পেটের সামান্য একটা অংশে চাপ পড়ে। অথচ পুরো পেটের ব্যায়াম করতে কাঁধ ও বুক পর্যন্ত চাপ প্রয়োগ করতে হয়। কাজেই শুধুমাত্র ক্রাঞ্চে পেটের চর্বি দূর হবে না।

২. যত ঘাম তত ক্যালোরি ক্ষয় : সবাই ভাবেন দেহ থেকে যত ঘাম ঝরানো যাবে তত ক্যালোরি কমবে। কিন্তু ঘাম বের হওয়া দেহের একটি প্রকৃতিক প্রক্রিয়া যা ত্বক ও দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দেহ কায়িক শ্রমে ক্লান্ত হলে এমনটা হয়। কিন্তু সঠিক ব্যায়ামটাই আসল ব্যাপার। এ প্রক্রিয়ায় ঘাম ঝরালে উপকার মেলে।

৩ দৌড়ানো হাঁটুর জন্যে ক্ষতিকর : স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলাহয়, নিয়তিম দৌড়েছেন এমন বয়স্ক মানুষের হাঁটু দৌড়ায় না এমন তরুণদের চেয়েও সুগঠিত। দৌড়ানো হাঁটুর জন্যে ক্ষতিকর হলে ফুটবল খেলোয়াড়দের অবস্থা শোচনীয় হতো। বরং উল্টোটাই ঘটে। তবে দৌড়াতে গিয়ে আঘাত পেলে তা ক্ষতিকর হবে। হাঁটুর যত্নে তাই সঠিক নিয়মে দৌড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিয়ে সপ্তাহে সময় করে দৌড়াতে হবে। তা ছাড়া স্বাস্থ্যকর দৌড়ানোর পদ্ধতি শিখে নিন।

৪. স্ট্রেচিংয়ে সুস্থতা ফিরে আসে : এ কাজে অনেকটা ভালো বোধ হয়। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব মিলানের এক গবেষণায় বলা হয়, কায়িক শ্রমের পর দেহকে কিছুটা স্বস্তি দিতে স্ট্রেচিং বেশ কাজের। এতে দেহজুড়ে রক্তচলাচল সুষ্ঠু হয়। তবে এ পদ্ধতিতে পেশির ব্যথা পুরোপুরি দূর হয় না। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুও দ্রুত মেরামত করে না স্ট্রেচিং। অসুস্থতায় স্ট্রেচিং সুস্থতা দেয় না। তবে ব্যায়ামের পর এ কাজ করলে বেশ আরাম পাবেন।

৫. স্বাস্থ্যকর ব্যায়াম ৪৫ মিনিটের : বলা হয়, মোটামুটি ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলে তা স্বাস্থ্যকের কাজে লাগে। অথচ মাত্র ১০ মিনিটের সঠিক ব্যায়ামেই কার্ডিওভাসকুলার ডিজিসের ঝুঁকি কমে আসে। বহু গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বল্প পরিসরের ব্যায়ামের মহাশক্তির কথা। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়, টানা ৩০ মিনিটের কাজ না করে তাকে ১০ মিনিট অন্তর ভাগ করে নিলে রক্তচাপ অনেকটা কমে আসে। যদিও একটানা কাজের মাধ্যমেও স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখা যায়, তবুও নিয়মিত বিরতিতে তা আরো স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।

৬. যত ব্যায়াম তত ভালো : ব্যস্ততার মাঝে অনেক সময় ধরে ব্যায়াম করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। অনেকের ধারণা, ব্যায়ামাগারে যত সময় ব্যয় করবেন ততই উপকার। এতে পেশি দ্রুততার সঙ্গে দৃঢ় হয় বলে ভাবা হয়। আসলে মোটেও তা নয়। শ্রম দেওয়ার পর দেহের বিশ্রামের প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যায়াম করলেও সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন বিশ্রাম নিতে হবে। ব্যায়ামের কারণ যে শক্তি খরচ হয় তাকে ফিরিয়ে আনতে সময় দেওয়া জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলোও সুস্থতা ফিরে পায়।