মেইন ম্যেনু

জেনে নিন মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণগুলো

মাথা খানিক পরপর ব্যথা করছে ইদানিং? একটু কেমন যেন চক্কর খাচ্ছে? দূর্বলতা বা নিন্ম রক্তচাপের দোহাই দিয়ে অনেকেই পাশ কাটিয়ে যেতে চান এমন ছোটখাটো চিহ্নকে। বিশেষ করে মানুষটি যদি নারী হন তাহলে তো কোন কথাই নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই ছোটখাটো কিছু ব্যাপারের মাধ্যমেই আরেকটি অন্যরকম আর ভয়ঙ্কর মানে বেরিয়ে আসতে পরে যে কোন সময়? আর সেই ভয়ঙ্কর মানেটা হচ্ছে আর কিছু নয়, মস্তিষ্কের টিউমার। হেসে উড়িয়ে না দিয়ে এক্ষুণি তাই যাচাই করে দেখুন সত্যিই মস্তিষ্কের টিউমার হবার এই লক্ষণগুলো আপনার ভেতরো রয়েছে কিনা।

মস্তিষ্কের গঠন হাড়ের মাধ্যমে হওয়ায় আর এর ভেতরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের জায়গা থাকায় অতিরিক্ত হিসেবে ব্রেইন টিউমার হলে সেটা সেখানে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দেখা দেয় মাথাব্যথা বা এরকমের সাধারন কিছু ব্যাপার। প্রায় প্রতি তিনজন ব্রেইন টিউমার আক্রান্ত ব্যাক্তির ভেতরে একজন চিকিত্সকের কাছে গিয়েছিলেন মাথাব্যথার কারণে। যদিও এ দুটোর উপস্থিতির মানে এই নয় যে, আপনার মাথায় টিউমার রয়েছে। কিন্তু যদি সত্যিই টিউমার থেকে থাকে সেক্ষেত্রে আরো বেশকিছু চিহ্ন খুব দ্রুতই দেখতে পাবেন আপনি নিজের ভেতরে।

১. অতিরিক্ত ঘুম

সময়ে অসময়ে প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে যাবেন আপনি। ঘুমিয়ে পড়বেন হুটহাট ( ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে )। তন্দ্রাভাব কাজ করবে আপনার ভেতরে সবসময়। অচেতনতা আর ঘুমের মাঝামাঝি একটা অবস্থানে অবস্থান করবেন আপনি। আর এর কারণ মস্তিষ্কের ভেতরে টিউমার অনেকটা চাপ তৈরি করা। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আপনার চোখও।

২. অসুস্থতা

মাথায় টিউমার হলে খুব স্বাভাবিকভাবেই অসুস্থ হবেন আপনি। মাথাব্যথার সাথে সাথে নাকের সমস্যা হবে আপনার ( ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে )। সমস্যাটা বাড়বে বিশেষ করে দিনের বেলায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর। তবে এর সাথে সাথে প্রায়ই হেঁচকি ওঠার প্রবণতা বাড়বে আপনার ভেতরে।

৩. খিঁচুনি

মস্তিষ্কের টিউমরের ক্ষেত্রে খিঁচুনি হওয়া বেশ স্বাভাবিক একটা ঘটনা ( ম্যাকমিলান )। কখনো কেবল শরীরের একটা নির্দিষ্ট স্থানে, আর কখনো পুরো শরীরে হতে পারে সেটা। তবে টিউমর সফলভাবে অপসারণ করা গেলে এই সমস্যাটিও সরে যাবে আপনার শরীর থেকে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলভাবে টিউমর সরানোর পরেও সমস্যাটি কিছু বছর থেকেই যায় রোগীর সাথে।

এছাড়াও ব্রেইন টিউমরে আরো যে যে চিহ্নগুলো দেখতে পারবেন আপনি সেগুলো হচ্ছে-

১. দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা

২. কানে সমস্যা

৩. মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা

৪. গন্ধ না পাওয়া

৫. বমিভাব ( মেডিসিন নেট )

তবে আপনার কেমন সমস্যা হচ্ছে বা কতটা কি চিহ্ন দেখা দিচ্ছে সেটার অনেকটাই নির্ভর করবে আপনার মাথার ঠিক কোথায় টিউমার হয়েছে তার ওপর।যেমন- ফ্রন্টাল লবে টিউমার হলে আপনার কানে শুনতে, গন্ধ নিতে ও হাঁটতে সমস্যা হবে। এছাড়াও পরিবর্তন হবে আপনার আচরণের। অন্যদিকে, টেমপোরাল লোবে টিউমার হলে শব্দ মনে করতে কষ্ট হবে আপনার ( ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে )। স্মৃতিশক্তি কমে যাবে। মাথার ভেতরে নানা কথা ঘুরে বেড়াবে। আর তাই এ জন্যে আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে যে ঠিক কোন ধরনের টিউমার হয়েছে আপনার। প্রাথমিক চিহ্নগুলো পাওয়ার পরপরই তাই আপনার উচিত চিকিত্সকের কাছে চলে যাওয়া আর যথাযথ চিকিত্সা নেওয়া। তাহলেই টিউমার খুব প্রাথমিক অবস্থা থেকেই কোনরকম ক্ষতি করা ছাড়াই অপসারণ করা যাবে আপনার শরীর থেকে।