মেইন ম্যেনু

জেনে নিন রোজার অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা

রমজান মাসে রোজা রাখার ধর্মীয় গুরুত্বের কথা বেশীরভাগ মানুষ জানলেও এর স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা খুব কম মানুষই জানে। যদি সঠিকভাবে রোজা পালন করা হয় তাহলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে অনেক উপকারি। চলুন জেনে নেয়া যাক রোজা রাখার অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা।

১। ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে

বিভিন্ন ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবারের মান বাড়ানোর জন্য ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন উপাদান যোগ করা হয়। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে টক্সিন জমা হতে থাকে। এদের কোন কোনটি অ্যাডভান্স গ্লাইকেশন ইন্ড প্রোডাক্ট(AGEs)এর উৎপাদনকে উৎসাহিত করে। এই ধরণের টক্সিনগুলোর বেশির ভাগই চর্বিতে জমা হয়। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে অর্থাৎ রোজা রাখলে এই চর্বিগুলো পুড়ে কমতে থাকে। ফলে টক্সিনগুলো দেহ থেকে বাহির হয়ে যায়।

২। প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার সমাধান করে

কিছু গবেষণায় জানা গেছে যে, রোজা থাকলে প্রদাহজনিত রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, সোরিয়াসিস ইত্যাদি ও অ্যালার্জির সমস্যার সমাধানকে উৎসাহিত করে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে আলসারেটিভ কোলাইটিসের নিরাময়ে সাহায্য করে রোজা।

৩। রক্তে চিনির পরিমাণ কমায়

রোজা রাখলে গ্লুকোজ ভাঙ্গার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার ফলে শরীর এনার্জি পায়। ইনসুলিনের উৎপাদন কমায়। ফলে অগ্নাশয় বিশ্রাম পায়। গ্লুকোজের ভাঙ্গনে সাহায্য করে গ্লুকাগন। রোজা রাখলে রক্তের চিনির পরিমাণ কমতে থাকে।

৪। পরিপাক প্রক্রিয়ার বিশ্রাম হয়

রোজা রাখলে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গের বিশ্রাম হয়। সাধারণ শারীরবৃত্তীয় কাজগুলো বিশেষ করে পাচক রস নিঃসরণ হয় তবে কম পরিমাণে হয়। ফলে খাবার আস্তে আস্তে ভাঙ্গে। শক্তির নিঃসরণও হয় ধীর গতির। কিন্তু পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণ বন্ধ হয়না। তাই পেপটিক আলসারের রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়।

৫। উচ্চ রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে

ধমনীতে চর্বি জমলে এথেরোসক্লেরোসিস হয়। রোজা রাখলে এথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি কমে। রোজা রাখলে শরীরের গ্লুকোজ ও জমাকৃত চর্বি ভেঙ্গে শক্তি নির্গত হয়। রোজা রাখলে বিপাকের হার কমে যায়। এড্রেনালিন ও ননএড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ কমে। এরা বিপাকের হার স্থির ও সীমিত রাখে। ফলে উচ্চ রক্তচাপও কমে।

৬। ওজন কমায়

রোজা রাখলে দেহের ওজন কমে। রোজা রাখলে শরীরে চর্বির পরিমাণ কমে। ইফতারিতে তৈলাক্ত ও চিনি জাতীয় খাবার কম খেয়ে ফল খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। যেহেতু চর্বি হচ্ছে এনার্জির প্রধান উৎস। তাই রোজা রেখে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করলে চর্বি ভেঙ্গে শক্তি নির্গত হবে।

৭। আসক্তি মুক্ত হতে সাহায্য করে

বিভিন্ন ধরণের বদঅভ্যাস যেমন- ধূমপান, মদ্যপান, ক্যাফেইন থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে রোজা। যেহেতু রোজা রেখে দিনের বেলায় কিছু খাওয়া যায়না তাই এই বদঅভ্যাসগুলো থেকে সরে আসা সহজ হয়। দীর্ঘ একমাস সংযমের মধ্য দিয়ে কাটানোর ফলে যে কোন বদঅভ্যাস থেকে মুক্ত হওয়া সহজ হয়।

যেহেতু রোজা রাখলে সারাদিনে খাবার ও পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয় তাই শরীরে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হতে পারে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তাদের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ইফতার ও সেহেরীতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ।