মেইন ম্যেনু

জেনে নিন সাঁতারের ৯ স্বাস্থ্য উপকারিতা

যেকোন ধরণের ব্যায়াম করাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সাঁতার সব ধরণের ব্যায়ামের চেয়েই ভালো বলে প্রমাণিত হয়েছে। শরীর ও মন উভয়ের জন্যই সাঁতার উপকারী। সাঁতারের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়েই জেনে নিব এই ফিচারে।

১। ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

৩০ মিনিট সাঁতার কাটলেই ৩৬৭ ক্যালরি পোড়ে – যা হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং দৌড়ানোর চেয়েও বেশি। তাই ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে উপকারী ব্যায়াম হচ্ছে সাঁতার কাটা। সাঁতারের সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করে বলে ক্যালরি পোড়ে বেশি। তাই বর্তমানে অনেক মানুষই সুস্থ থাকার জন্য ও পাতলা হওয়ার জন্য সাঁতারকেই বেছে নিচ্ছেন।

২। স্ট্রেস কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

Speedo এর তত্ত্বাবধানে ৪০০০ সাঁতারুর উপর জরিপ করা হয়। তাদের মধ্যে ৭৪% সাঁতারু একমত প্রকাশ করেন যে – সাঁতার কাটলে স্ট্রেস ও টেনশন কমে যায়। ৬৮% সাঁতারু বলেন যে – পানিতে থাকলে তারা তাদের নিজেদের সম্পর্কে ভালো অনুভব করেন। ৭০% অভিমত প্রকাশ করেন যে, তারা সাঁতারের পরে মানসিক সতেজতা অনুভব করেন। তাই বলা যায় যে, এই অ্যারোবিক ব্যায়ামটি আপনাকে রিলেক্স হতে সাহায্য করবে এবং আপনার এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি করবে। তাই স্ট্রেস ও দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে সাঁতার কাটুন।

৩। মেজাজের উন্নতি ঘটায়

অন্য একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, সাঁতার কাটলে টেনশন, ডিপ্রেশন, রাগ এবং দ্বিধা কমে যায়। কারণ সাঁতার কাটলে সেরেটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, যা ভালো থাকার অনুভূতি দেয়।

৪। পেশীর শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

বাতাসের তুলনায় পানির বাঁধা ৪৪ গুণ বেশি। অর্থাৎ পানিকে সরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। এটা ওজন বা মেশিনের সাহায্যে কাজ করার মতোই পেশীর শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যেখানে দামী সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়না। তাই বলা যায় যে পেশীকে শক্তিশালী করার একটি সাশ্রয়ী উপায় হচ্ছে সাঁতার কাটা।

৫। লো-ইমপ্যাক্টের ব্যায়াম

পানির প্লবতার কারণে সাঁতারের সময় আপনাকে শুধু আপনার ওজনের ১০% বহন করতে হয়। পানিতে নড়াচড়া করা সহজ এবং এতে হাড়, জয়েন্ট ও পেশীতে কম চাপ পরে। তাই অন্যান্য ব্যায়ামের চেয়ে সাঁতার কাটায় কম আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৬। ঘুমের উন্নতি ঘটায়

যারা সাঁতার কাটেন তাদের রাতের ঘুম ভালো হয় বলে এক জরিপের ফলাফলে জানানো হয়েছে। তাদের ঘুম জনিত সমস্যা যেমন- ইনসমনিয়া বা তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার সমস্যা হয়না।

৭। ব্যাকপেইন দূর করে

সাঁতারে সংযোগ কলার উপর কোন চাপ পড়েনা বলে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য সাঁতার উপকারী। পায়ের ব্যথা, পিঠের/কোমরের ব্যথা এর পাশাপাশি আরথ্রাইটিস ও অষ্টিওপোরসিস এর সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে সাঁতার।

৮। প্রেগনেন্সির জন্য উপকারী

পেটের ও কাঁধের পেশী শক্তিশালী করে সাঁতার। তাই প্রেগনেন্ট নারীদের জন্য সাঁতার অত্যন্ত উপকারী একটি ব্যায়াম। জয়েন্টের ব্যথা কমাতে ও প্রেগনেন্সির সাথে সম্পৃক্ত অস্বস্তি দূর করতেও সাহায্য করে ব্যায়াম। আমেরিকার মিনিয়াপলিসের মেলপোমেন ইনস্টিটিউট তাদের এক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, গর্ভবতী নারীরা যদি নিয়মিত সাঁতারের সেশনে অংশগ্রহণ করে তাহলে তাদের মিসক্যারিজ হওয়ার প্রবণতা কমে।

৯। রোগের ঝুঁকি কমায়

সাঁতার একটি চমৎকার কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ। এছাড়াও সাঁতার আপনার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, উচ্চ রক্ত চাপ কমায় এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই নিয়মিত সাঁতার কাটলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমে।