মেইন ম্যেনু

জেনে নিন, সাপের কামড়ে মানুষের শরীরে কী ঘটে (ভিডিওসহ)

সারা রিশ্বে প্রতিবছর ১০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ সাপের কামড় খায়। এর প্রতি পাঁচজনের একজন বিষক্রিয়ার কারণে মারা যায়। আগে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল আরো বেশি। তখন সাপের বিষের তেমন কোনো প্রতিষেধকও ছিল না। বিষাক্ত সাপের কামড়ে মানুষের শরীরে বিষ ঢোকে। এর পরে মানুষের শরীরে কী ঘটে, যে কারণে মৃত্যু হয়?

গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সাপে কাটা এক মার্কিন চিকিৎসকের দিনলিপি সূত্রে জানা গেছে মানুষের শরীরে সাপের বিষের প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি বিষয়টি গবেষকদের নজরে আসে। এ বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করেছে প্রকৃতি ও প্রাণীবিষয়ক সাময়িকী ‘ডিসকভারি ম্যাগাজিন’। আর দিনলিপির আলোকে সাপের বিষক্রিয়ায় শরীরে প্রভাব নিয়ে ভিডিওচিত্রও প্রকাশিত হয়েছে।

মার্কিন উভচর প্রাণী বিশেষজ্ঞ কার্ল প্যাটারসন স্মিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মৎস্য ও উভচর প্রাণিবিদ্যাবিষয়ক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট (১৯৪২-১৯৪৬)। নিউ ইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টরি ও শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামে গবেষণা করেছেন তিনি।

১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর লিংকন পার্ক চিড়িয়াখানার পরিচালক মারলিন পারকিনস তথ্য জানতে একটি বড় আকৃতির বিষাক্ত সাপ স্মিতের কাছে পাঠান। অসাবধানতার কারণে সাপটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। বিষক্রিয়ার বিষয়টি তাঁর জানতে দেরি হয়। ততক্ষণে বিষ শরীরের অনেক অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

সাপের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী ১৫ ঘণ্টা সময়ে শরীরে পরিবর্তনের বিষয়টি দিনলিপিতে লিখে যান স্মিত। ওই দিনলিপির বরাত দিয়ে ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, বিষক্রিয়ার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্মিতের বমি বমি ভাব হয় একই সঙ্গে রক্ত হারাতে থাকেন তিনি। আর বিষের কারণে তাঁর রক্ত জমাট বাঁধা বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক রক্তক্ষরণ হয়। বিষক্রিয়ার কারণে তাঁর শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়। স্মিটের মুখের ভেতরের অংশেও ক্ষরণ হয়।

ইনডিপেনডেন্ট জানায়, বিষক্রিয়ার পরদিন সকালে স্মিত হাসপাতালে ছুটে যান। ভালোভাবে চিকিৎসায় হয়তো তাঁর জীবন বাঁচানো যেত। তবে ছোট সাপের কামড়ে বড় কোনো ক্ষতি হবে না এমন বিশ্বাস থেকে চিকিৎসায় হেলাফেলার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

বর্তমানে চিড়িয়াখানায় বা গবেষণাগারে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা নেই বললেই চলে। কারণ এসব স্থানে সাপের বিষের প্রতিষেধকও রাখা হয়।

দিনলিপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা ভিডিওচিত্রটি দেখুন :