মেইন ম্যেনু

জেনে নিন হাঁটার স্বাস্থ্য উপকারিতা

হাঁটার কথা আসলেই আপেলের প্রচলিত প্রবাদটির কথা মনে পড়ে এবং বলা যায় যে প্রতিদিন সামান্য কিছু সময় হাঁটলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়। দ্যা ডক্টর অন ডিমান্ড ডায়েট বইটির লেখক মেলিনা বি জেম্পোলিস বলেন, “হাঁটা নাম্বার ওয়ান এক্সারসাইজ। আমি আমার সব রোগীদের হাঁটার পরামর্শ দেই, কারণ এটি করা খুব সহজ এবং এর জন্য কিছুই করার প্রয়োজন হয়না শুধু একজোড়া টেনিস সু হলেই চলে। এর দ্বারা আপনি পেতে পারেন চমৎকার শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা”। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার ফলে আপনি পেতে পারেন যে স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সে বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

১। মেজাজের উন্নতি ঘটায়

স্ট্রেস কমানোর জন্য যেমন ডার্ক চকলেট খাওয়া হয় তেমনি হাটলেও একই উপকার পাওয়া যায়। জেম্পোলিস বলেন, “গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত হাঁটলে নার্ভাস সিস্টেম এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে আপনার রাগ ও প্রতিশোধমূলক আচরণ কমে যাবে”। তাছাড়া হাঁটলে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয় যা মুড ভালো করতে সাহায্য করে।

২। সংবহনের উন্নতি ঘটায়

হাঁটলে হৃদস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ কমে এবং হার্টকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেনেসি এর করা গবেষণায় জানা যায় যে, মেনোপোজ হয়েছে এমন মহিলাদের দিনে ১/২ মাইল হাঁটার ফলে ব্লাড প্রেশার ২৪ সপ্তাহে ১১ পয়েন্ট কমে। বোস্টনের হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর গবেষণা মতে জানা যায় যে, যে নারীরা দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটেন তাদের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ২০-৪০% কমে।

। হাড়ের ক্ষয় রোধ করে

নিউ ইয়র্কের প্লেঞ্চার অর্থপেডিক্স এন্ড স্পোর্টস মেডিসিন এর এমডি মাইকেল এ সোয়ারজ বলেন, “হাঁটলে অষ্টিওপোরোসিসের রোগীদের হাড়ের ঘনত্ব কমা বন্ধ হয়”। মেনোপোজ পরবর্তী নারীদের কোমরের ফ্রেকচার হওয়ার ঝুঁকি ৪০% পর্যন্ত কমে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে।

৪। পেশীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে

হাঁটা পা ও পেটের পেশীকে টানটান হতে সাহায্য করে। হাঁটলে গতি বৃদ্ধি পায় এবং জয়েন্ট ও পেশীর চাপ ও ওজন কমে অর্থাৎ ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটলে ২০০ ক্যালরি পুড়ে।

৫। জয়েন্টকে সুস্থ রাখে

জয়েন্টের কার্টিলেজে সরাসরি রক্ত সরবরাহ হয়না। জয়েন্ট তার পুস্টি সংগ্রহ করে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বা জয়েন্ট ফ্লুইড থেকে। আমরা যখন নড়াচড়া করি তখনই এই তরলের সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। হাঁটার ফলে জয়েন্টে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহ হয়। আপনি যদি না হাঁটেন তাহলে জয়েন্টের জীবন দানকারী তরলের পরিমাণ কমতে থাকে এবং হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও আরথ্রাইটিসের ব্যথা কমতে সাহায্য করে, ঘুমের উন্নতি ঘটায়, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি হয়, স্মৃতিক্ষয়ের পরিমাণ ধীর গতির হয়, আলঝেইমার্সের ঝুঁকি কমায়, কর্মশক্তি বৃদ্ধি করে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।