মেইন ম্যেনু

জেনে রাখুন আলঝেইমার্স রোগের লক্ষণগুলো

বয়সের সাথে সাথে মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো নিস্তেজ হয়ে যেতে শুরু করে। ফলে একটা সময় দরকারি অনেককিছুই ভুলে যেতে থাকে সে। বার্ধক্য, জরা আর মৃত্যুর মতন এই সমস্যাটি অনেকটা সাধারণই বলা চলে। কিন্তু এই অতি সাধারন সমস্যাটিই অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে দাড়ায় যখন অনেক কম বয়সেই অস্বাভাবিকভাবে সবকিছু ভুলে যেতে থাকে মানুষ অথবা হুট করেই বেড়ে যেতে থাকে সমস্যাটির পরিমাণ। স্বাভাবিক ঘটনা থেকে ভয়ঙ্কর এক রোগে পরিণত হয়ে যায় সেটি তখন। যার নাম আলঝেইমার্স। এ রোগে ভুগতে থাকা রোগীরা খুব দ্রুত আর অস্বাভাবিকভাবে সবকিছু ভুলে যেতে থাকেন। স্বাভাবিক মানুষের মতন কেবল দু-একটা জিনিসই নয়, একটা সময় ভুলে যান নিজেকেও!

ভুলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা বিধায় এমনিতে সহজে বুঝতে পারা যায় না আলঝেইমার্স রোগকে। কিন্তু তারপরেও কিছু চিহ্ন রয়েছে যেগুলো দেখে খুব প্রথমদিকেই আপনি চিনে ফেলতে পারবেন একজন আলঝেইমার্সের রোগীকে।

১. আইন ভাঙার প্রবণতা

৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়স্ক মানুষের ভেতরে ফ্রন্টোটেম্পেরাল ডেমেনশিয়া বা এফটিডি নামক একটি সমস্যা দেখা যায়। এ সমস্যার ভুক্তভোগীরা নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননা ( হাফিংটন পোস্ট )। আর তাই কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক- সেটা বুঝতে পারেননা তারা। করে ফেলেন অনেক আইন বিরোধী কাজ। আলঝেইমার্স আক্রান্ত রোগীরাও বয়স হবার আগেই এমন সমস্যায় ভুগে থাকেন। নিজের অজান্তেই ভেঙে ফেলেন অনেক আইন।

২. বারবার পড়ে যাওয়া

বৃদ্ধদের যাদের ভেতরে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের সাথে আলঝেইমার্স আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মস্তিষ্কের একটা অত্যন্ত ভালোরকম মিল খুঁজে পান চিকিৎসকেরা। আর তাই আপনার কাছের মানুষটি যদি বারবার পড়ে যায় তাহলে তার আলঝেইমার্স হবার আশঙ্কা যথেষ্ট রয়েছে ( হাফিংটন পোস্ট ) বলে মেনে নিন আর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

৩. ভুলে যাওয়ার প্রবণতা

আলঝেইমার্স আক্রান্ত রোগীরা শব্দ, বাক্য, সময়, তারিখ এমনকি প্রতিদিনের দরকারি কাজটাও করতে বেমালুম ভুলে যান ( আলজ.অর্গ )। অনেক সময় কোথাও গিয়ে কেন গিয়েছেন, কি করছেন সেটাও মনে পড়েনা তাদের। এছাড়াও কোন ব্যাপার চোখের সামনে দেখলেও সেটা কি তা বুঝতে যথেষ্ট সময় লাগে আলঝেইমার্স আক্রান্ত রোগীদের।

৪. অদ্ভূত জিনিসপত্র খাওয়া

মানুষ খাবার খায় কারণ তার মস্তিষ্ক তাকে সেই সংকেত দেয়। বুঝতে সাহায্য করে যে কোনটি খাবার আর কোনটি নয়। কিন্তু আলঝেইমার্স রোগীরা কেবল ক্ষুধার প্রবণতাই বুঝতে পারেন। কিন্তু কোন খাবার খেতে হবে সেটা বোঝেননা। ফলে অদ্ভূত অদ্ভূত সব জিনিসপত্র খেতে দেখা যায় তাদের (গ্র্যান্ড পেরেন্টস )। কাঠ, পেরেক কিংবা অন্যকিছুও থাকতে পারে সেই তালিকায়।

৫. অস্বাভাবিক দৃষ্টি

আলঝেইমার্স রোগীরা এটা বুঝতে পারেননা যে কোনটা কেন হচ্ছে, মনে করতে বেশ সময় লেগে যায় তাদের। আর তাই চোখের দৃষ্টি বারবার এদিক-ওদিক করে তাদের ( গ্র্যান্ড পেরেন্টস )। অস্বাভাবিক হয়ে যায় দৃষ্টি। অনেক ভাবনা চিন্তা করা বা মনে করার চেষ্টার কারণেই এমনটা হয় তাদের।