মেইন ম্যেনু

জেবুন্নাহারকে গ্রেফতারেই দুর্বল হবে জেএমবি

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর নারী জঙ্গিদের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন জেবুন্নাহার ইসলাম। তিনি মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি ও সাবেক মেজর জাহিদুল ইসলাম জাহিদের (মেজর মুরাদ) স্ত্রী। পুরুষ জঙ্গিদের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছেন তিনি। পুলিশ বলছে, তাকে ধরতে পাড়লেই অনেকটা দুর্বল হবে জেএমবি। এমনকি জেএমবির নারী জঙ্গিবাদের ইতি ঘটবে। ফলে তাকে গ্রেফতারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

জানা গেছে, গুলশানের আর্টিসান রেস্তোরাাঁয় জঙ্গি হামলার পর জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। জঙ্গি বিষয়ক ঘটনার তদন্তে প্রধান ভূমিকা পালন করছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট। অপারেশনের কাজ করছে স্পেশাল ওয়েপুন অ্যান্ড ট্যাক্টিক্স (সোয়াট)। তাদের যৌথ অভিযানেই কল্যাণপুর, নারায়নগঞ্জ, মিরপুর এবং আজিমপুরে নব্য জেএমবির প্রধান তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ ১৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

তবে আজিমপুরের জঙ্গি হামলার পর পুরুষ জঙ্গিদের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে নারী জঙ্গিদের তৎপরতা। আজিমপুর থেকে ৩ নারী জঙ্গিকে আটকের পর বেড়িয়ে এসেছে বড় বড় নাশকতার পরিকল্পনা ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে নারীদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি। আজিমপুর থেকে আটক তিন নারীর একজন হচ্ছেন আফরিন (প্রিয়তি)। তিনি নব্য জেএমবি ও গুলশান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মারজানের স্ত্রী। দ্বিতীয়জন আবেদাতুল ফাতেমা খাদিজা। সে আজিমপুরের অভিযানে নিহত তানভীর কাদেরীর (করিমের) স্ত্রী এবং তৃতীয়জন জেএমবি নেতা বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেটের স্ত্রী শায়লা আফরিন (শারমিন)।

সিটির তদন্ত সূত্র জানায়, জেএমবির মধ্যে চারজন নারী জঙ্গি প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় রয়েছেন। এদের তিনজন আটক রয়েছে। অপরজন মেজর মুরাদের স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে সে দুই মেয়ে জুনায়েরা (৬) ও মারিয়াম (১)কে নিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, মেজর মুরাদ মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটির এক কর্মকর্তা জানান, জেবুন্নাহার গুলশানের আর্টিসান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি হামলার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। তার স্বামীর (মেজর মুরাদ) সঙ্গে যে সব জঙ্গির যোগাযোগ ছিল তাদের সবাইকেই চেনেন জেবুন্নাহার। সাংগঠনিক কাজেও বেশ পারদর্শী সে। প্রযুক্তি জ্ঞানও প্রখর।

তিনি আরো জানান, জঙ্গি আস্তানার তৈরির জন্য বাড়ি ভাড়ার কাজ করতো জেবুন্নাহার। ‘টেলিগ্রাফ’ অ্যাপসের মাধ্যমে অন্যান্য নারী ও পুরুষ জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাকে গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতার করতে পারলে জেএমবির নারী জঙ্গিদের তৎপরতা বন্ধ হতে পারে।

সিটি ইউনিটের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গুলশানে হামলার স্থান, দিনক্ষণ ও সময় আগে থেকেই এই ৪ নারী জঙ্গি জানতো এবং তারা নিয়মিত জঙ্গি আবদুল করিমের বাসায় যাতায়াত করতো। আবদুল করিম আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হয়। সেখান থেকে জেবুন্নাহারকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তার পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), এসএসসি এবং এইচএসসির সনদপত্র জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, মেজর মুরাদ নিহত হওয়ার পর অন্যান্য জঙ্গিদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন স্ত্রী জেবুন্নাহার। তাকে ধরতে পাড়লেই অনেক দুর্বল হবে জেএমবি।

এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জেএমবির স্বতন্ত্র কোনো নারী উইং নেই। এই ৪ নারী জঙ্গির মধ্যেই নব্য জেএমবির নেটওয়ার্ক সীমিত রয়েছে। তাদের স্বামীদের দ্বারা মগজ ধোলাইয়ের কারণে এ ধরণের কর্মকাণ্ড লিপ্ত তারা। তবে স্বামীরাই তাদের এ পথে আনার একমাত্র কারণ নয়। তারা নিজেদের কথিত ‘ইসলাম’ কায়েমের নামে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এসব করছে।

জেএমবির নারী জঙ্গিদের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) বলেন, আজিমপুর থেকে গ্রেফতার ৩ নারী জঙ্গি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে জিজ্ঞাবাসাদ করা হবে। কথিত মেজরের পলাতক স্ত্রী জেবুন্নাহারকে গ্রেফতারেরও চেষ্টা চলছে।