মেইন ম্যেনু

জেলে তিরিশ বন্দির ভিড়ে ঠাঁই তাপসের

একটা সেলে প্রায় জনা তিরিশেক বন্দি৷ তাঁদেরই মধ্যে রাখা হয়েছে বাংলা সিনেমার নায়ক তথা সাংসদ তাপস পালকে৷ মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই ঝাড়পদা জেলে অনেক লোকের মধ্যে অসুস্থ তাপসকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা-কর্তারা৷ চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে আগে যে-সব হাইপ্রোফাইল মানুষ জেল খেটেছেন তাঁরা কেউই এত বন্দির সঙ্গে একসঙ্গে থাকেননি৷ এমনকী সুদীপ্ত সেনও নন৷ কম সংখ্যক বন্দির সঙ্গে তাঁকে আগে রাখার একটা ভাবনাচিন্তা হয়েছিল৷ কিন্ত্ত তাপসের মানসিক উত্‍কন্ঠা, উদ্বেগ এবং হঠাত্‍ হঠাত্‍ অসুখ নিয়ে চিত্‍কার চেঁচামেচি করে সকলের নজর টানার প্রবণতায় চিকিত্‍সকরাও মনে করছেন, সকলের সঙ্গে থাকাটাই তাঁর পক্ষে ভাল হবে৷

অসুস্থ তাপস পালকে নিয়ে রীতিমতো ব্যতিব্যস্ত ওডিশার কারা-কর্তারা৷ এর আগে গ্রেপ্তারির পর দু’দফায় ছ’দিন সিবিআই হেফাজতেও তিনি যথেষ্ট বেগ দিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দাদের৷ এ বার আবার অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাওয়া নিয়ে নিত্যনতুন বায়না৷ জেলের খাবার তাঁর মুখে রুচছে না৷ কিন্ত্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া বাইরের খাবার তাঁকে দিতে নারাজ কারা-কর্তৃপক্ষ৷ তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারা-কর্তৃপক্ষ বেশ ফাঁপরেই পড়েছেন৷

শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শুক্রবার জেল হেফাজতে যাওয়ার পরেই সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রোজভ্যালিতে ধৃত সাংসদ৷ কিন্ত্ত শ্বাসকষ্টের চিকিত্‍সা করার মধ্যেই তাঁর নানাবিধ অসুখের ফিরিস্তি শুনতে হচ্ছে চিকিত্‍সকদের৷ শনিবার বিকেলে মানসিক শান্তির জন্য তাপসকে নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বরের ক্যাপিটাল হাসপাতালে৷ সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে তাঁর বুকের পরীক্ষা করেন চিকিত্‍সকেরা৷ পরে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ঝাড়পদা জেলে৷ চিকিত্‍সকেরা জানিয়েছেন, বুকে সংক্রমণের কারণে তাঁর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেড়েছে৷ ওষুধ দেওয়া হয়েছে৷ এখন তিনি অনেকটা সুস্থ৷ তাই জেলেই থাকতে পারবেন৷ প্রয়োজনে জেলের হাসপাতালেই তাঁর এই চিকিত্‍সা হতে পারে৷

ক্যাপিটাল হাসপাতালের চিকিত্‍সকরা তো বলেই খালাস! কিন্ত্ত এমন হেভিওয়েট বন্দিকে নিয়ে কী করবেন, কীভাবে তাঁর খাবারের আবদার এবং মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় সামাল দেবেন তা নিয়ে চিন্তিত কারা-কর্তারা৷ হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে তাঁর বলে যাওয়া নানা সমস্যার কথা শুনে ভাঙা বাংলা আর হিন্দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডেনরা তাঁকে শুশ্রূষার চেষ্টা করেন৷ কারা বিভাগের এক অফিসার বলেন,‘জেলে আসার পর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে৷ তাই তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷ চিকিত্‍সা করা হয়৷ কিন্ত্ত তিনি হাসপাতাল ছেড়ে আসতে নারাজ৷’

তাপসকে নিয়ে যখন জেল হাসপাতালে নাজেহাল কারা-কর্তারা, তখন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে সিবিআই দপ্তরেও প্রবল অস্বস্তি৷ এমনিতেই লোকবলের অভাব কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থায়৷ তার উপরে পর পর দুই হাই প্রোফাইল অভিযুক্ত৷ এখন সেখানে হেফাজতে থাকা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করতে এ দিন সকাল থেকে এক এসপি পদমর্যাদার অফিসার বেশ কিছু ফাইলপত্র নিয়ে তৈরি হয়েছিলেন৷ কিন্ত্ত সকালে মাত্র ঘন্টা খানেক জেরা করেই সেই অফিসারকে ছুটতে হয় অন্যত্র তদন্তের কাজে৷ আর হাসপাতাল থেকে লাগাতার তাপস সম্পর্কে খবর আসতে থাকায় কিছুটা চাপ বাড়ে৷ ভুবনেশ্বরে সিবিআই আদালতে তাপস পালের কৌঁসুলি সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর জামিনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বলেছিলেন, নানা রোগে আক্রান্ত সাংসদকে যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক৷ সব শর্ত তিনি মেনে চলবেন৷ আর সিবিআই কৌঁসুলি কালীচরণ মিশ্র গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, যত বড় রোগই হোক না কেন, সব চিকিত্‍সাই এখানকার হাসপাতালে রয়েছে৷ ফলে কোনও সমস্যা হবে না৷

এর মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৯, ১০ ও ১১ তারিখ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে ধর্নায় বসবে দল৷-এই সময়