মেইন ম্যেনু

জ্বালানি তেলের দাম অবশেষে কমছে!

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেলেও দেশের বাজারে এ কোনো প্রভাব নেই। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা সমালোচনা হলেও সরকার আপতত দাম না কমানোর পক্ষেই মত দিয়ে আসছিল। তবে রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দামের বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে৷ প্রথমে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। সেপ্টেম্বরে তেলের দামের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

চলতি বছরের বাজেট পেশের আগেও মুহিত এমনটি বলেছিলেন। তবে বাজেটে এর কোনো প্রতিফলন চোখে পড়েনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপোরিশোধিত তেল গত শুক্রবার এক ব্যারেলেরর দাম কমে হয়েছে ৪০ মার্কিন ডলার।

ভারত মনে করছে, এতে করে জ্বালানি তেল আমদানি খাতে তাদের সাশ্রয় হবে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি। ফলে সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করতে পারবে সরকার। একইসঙ্গে ভারতের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আরও কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত তিন মাসে কয়েক দফায় ভারতে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।

এই নিয়ে মার্কিন বাজারে পরপর আট সপ্তাহ দাম পড়েছে অপরিশোধিত তেলের। দাম কমেছে ৩৩ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, তেলের দামের এটা রেকর্ড পতন।

প্রসঙ্গত, এতোদিন জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকারের প্রচুর ভর্তুকি দিলে গত বছর থেকে এ খাতে লাভ করছে সরকার। গত বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার লাভ এ বছর ৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

সরকারের বক্তব্য, দীর্ঘ দিন জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি দেয়ায় তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) লোকসানে ও ঋণে জর্জরিত। এখন লাভের ফলে সে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া হচ্ছে।

রোববার বিকেলে মুহিত সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. রাকেশ মোহন এবং যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডেসমন্ড অ্যাঙ্গাস সোয়ানি টিডির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ।

আবুল মাল আবদুল মুহিতবৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে তেলে দাম কমানোর ইঙ্গিত দেন।

তিনি আরো বলেন, আইএমএফের বর্ধিত ঋণ সহায়তার (ইসিএফ) অবশিষ্ট দুই কিস্তির প্রথম কিস্তির অর্থ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পাওয়া যাবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের শর্তানুযায়ী ভ্যাট আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে। সংসদের আগামী অধিবেশনেই এটি পাস হবে। তাদের শর্তানুযায়ী বিপিসিকে আন্তর্জাতিক অডিটর দ্বারা অডিট করানো হবে। ইসিএফ শেষ হওয়ার পর আইএমএর সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে মুহিত বলেন, এটি নিয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আইএমএফের ৭০টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প চালু রয়েছে। এগুলো কমিয়ে ১৫ থেকে ২০টিতে নামিয়ে আনা হবে।