মেইন ম্যেনু

জ্বালানী তেলের দাম কমলেও বাস ভাড়া কমেনি

জ্বালানী তেলের দাম কমলেও বাস ভাড়ায় এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। আগের যে ভাড়া ছিলো সেই ভাড়াতেই চলছে রাজধানীর গণপরিবহন। ঢাকা শহরের বাসগুলো গ্যাস চালিত দাবি করে মালিকরা বলেছেন, ভাড়া কমানোর কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীরা অবশ্য বলছেন, যখন যে জ্বালানীর দামই বাড়ুক না কেনো ওই জ্বালানীতে বাস চলে দাবি করে ভাড়া বাড়ানো হয়, কিন্তু কোনোভাবেই কমানোর কোনো নজীর নেই।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, ফার্মগেট এবং মহাখালী এলাকার গণপরিবহনগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, যাত্রী পরিবহনে ভাড়ার কোনো হেরফের নেই। আগের মতোই সিটিং সার্ভিসগুলোতে গাদাগাদি করে লোক উঠানো হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেছিলেন, জ্বালানী তেলের দাম কমলে পরিবহন ভাড়ার সাথে সমন্বয় করা হবে। তাই জ্বালানী তেলের দাম কমানোয় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিলো ভাড়া কমবে। কিন্তু, সকালে বাস স্টপেজে এসেই তাদের সেই প্রত্যাশা ফিকে হয়ে যায়।

এক বাসে করে ফার্মগেটে এসে অন্য বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা আব্দুল্লাহ আল সাকিবের কাছে ভাড়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদেশে একবার ভাড়া বাড়লে আর কমানোর নাম-গন্ধ থাকে না। এক সময় সরকার ভাড়া কিলোমিটারে ৬০ পয়সা বাড়ানোর ফলে ২ টাকার ভাড়া ৫ টাকা হয়ে গেছে। অথচ তা হবার কথা ছিলো ৩ টাকা।

‘এভাবে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবারও যে ভাড়া কমবে এরকম প্রত্যাশা করি না,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজিমপুর থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরাগামী পূর্বাচল পরিবহনের সুপারভাইজার কাদের আলীর কাছে ভাড়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেও যেমন ভাড়া ছিলো এখনো তেমনি আছে। এই লিটারে ৩ টাকা তেলের দাম কমায় আর কী ভাড়া কমবে?

তার কথার সঙ্গেই সুর মেলালেন অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজের সভাপতি খন্দকার রফিকুল হুদা কাজল।

তিনি বলেন, ডিজেল চালিত যে বাসগুলো আছে সে বাসগুলোতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে ১শ ২০ লিটার তেল লাগে। এই তেলে মালিকদের টাকা বাঁচলো ৩’শ ৬০ টাকা। এই ৩’শ ৬০ টাকা কমলে আমরা কয় টাকা ভাড়া কমাবো!

অথচ, বারবারই তেলের দাম বাড়ার সময় যে ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন: আপনারা শুধু তেলের দাম কমানোর বিষয়টা দেখলেন। শুধু তেলের দাম বাড়লেই আমরা ভাড়া বাড়িয়েছি, কিন্ত বাসের যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে তো ভাড়া বাড়াইনি। তখন তো এ বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলেননি,’ বলেও দাবি করেন করেন তিনি।

শুধু দুয়েকটি রুট নয়, নগরীর ভেতরে এবং আন্তঃজেলাসহ সব ক্ষেত্রেই আগের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোথাও থেকে ভাড়া কমানোর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সঙ্গে সিএনজিতে বাস চালানোর অজুহাতও আছে তাদের।

মিরপুর থেকে মহাখালীর দিকে আসা কনক পরিবহনের সুপারভাইজার দিদারের কাছে ‘তেলের দাম কমেছে; ভাড়া কমানো হয়েছে কিনা’ জানতে চাইলে তিনি বলেন: আরে ভাই আমরা তো আর তেলে চালাই না। এ শহরের কয়টি বাস তেলে চলে যে ভাড়া কমবে!’

পাশে বসা এক যাত্রী বলেন, সময়মতো বাসে উঠতে পেরেছি এটাই বড় সৌভাগ্য। ভাড়া কমুক আর বাড়ুক সে নিয়ে ভাবছি না। সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারলেই খুশি, আর কিছু চাই না।

তবে, যাত্রীদের অনেকে বলেছেন, এ বাসগুলো এখন সিএনজিতে চলে দাবি করে ভাড়া কমাচ্ছে না। অথচ তেলের দাম বাড়ার সময় এরা ভাড়া বাড়িয়েছে। তখন তারা বাস তেলে চলে দাবি করেছে।

আর যেসব বাস সত্যিই জ্বালানী তেলে চলে তাদের ভাড়া না কমানোর জন্য যন্ত্রাংশের দামসহ আরো কিছু অজুহাত আছে।

তারা বলছেন, বাস মালিকেদের প্রত্যাশা ছিলো যে, বিশ্ব বাজারে যে হারে জ্বালানীর দাম কমেছে সে হিসাবে ‘টু ডিজিট’ হারে দাম কমানো হবে। কিন্ত দাম কমেছে ‘সিঙ্গেল ডিজিটে’।

তাদের সভাপতি খন্দকার রফিকুল হুদা কাজল দাবি করেন, ডিজেলের দাম কমেছে লিটার প্রতি ৩ টাকা। কিন্তু, আমরা এই ডিজেলের দাম ৫ টাকা না বাড়ানো পর্যন্ত কোনো ভাড়া বাড়াইনি।

যাত্রীরা অবশ্য বাস মালিকদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আহমেদুল বারী নামে একজন শিক্ষক বলেন, এমন কোনো সময় আমরা মনে করতে পারি না যে তেলের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে অথচ বাস ভাড়া বাড়ানো হয়নি।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১২০ থেকে ১২৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছিলো তখন সরকার তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৪ জানুয়ারি জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। ফলে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬, ডিজেল ও কেরোসিন ৬৮ এবং ফার্নেস অয়েলের দাম ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

পরে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারের নিচে নেমে আসলে দাম কমানোর দাবি উঠে। অবশেষে রোববার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয় নতুন দাম। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩ টাবা এবং অকটেন ও পেট্রোলের দাম ১০ টাকা কমানো হয়।

দাম কমানোর ফলে এখন পেট্রোল ও অকটেন লিটার প্রতি ৮৯ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিন লিটার প্রতি ৬৫ টাকায়ে বিক্রি হচ্ছে।