মেইন ম্যেনু

জ্যান্ত কবর দেয়ার আগে কেঁদে উঠলো শিশু!

কবর দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই শিশুটিকে একটি ব্যাগে ভরে ভারতের কর্নাটকের হসপেটের এক বেসরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে অটোয় উঠেছিলেন এক ব্যক্তি।

অটোয় উঠেই চালককে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যাগে মৃত শিশু রয়েছে। তাকে কবর দিতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু মাঝরাস্তায় আচমকা শিশুর কান্না শুনে সন্দেহ জাগে অটোচালকের।

মাঝরাস্তায় অটো থামিয়ে কৌতূহলেই ওই ব্যক্তির ব্যাগে উঁকি মারেন রামেশ নামে ওই অটোচালক। বাচ্চাটিকে জীবিত দেখে ওই রুটের আরেক অটোচালককেও ডেকে নেন রমেশ। এরপর কথা না বাড়িয়ে সদ্যোজাতসহ ওই ব্যক্তিকে নিয়ে সোজা ফেরত আসেন হাসপাতালে।

সদ্যোজাত শিশুকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়ার সময়েই ওই ব্যক্তি গা-ঢাকা দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই সময় জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই সদ্যোজাত কন্যাশিশুর জন্ম হয়। ভর্তির সময় শিশুটির মা বছর বাইশের অন্তঃসত্ত্বা যুবতী ডাক্তারকে জানিয়েছিলেন, তার স্বামী ক’দিন আগেই পথদুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

তার বাড়ি কোপাল জেলার গিণি গেরা গ্রামে। যে ব্যক্তি ওই শিশুটিকে ব্যাগে ভরে কবর দিতে যাচ্ছিলেন, তিনি সম্পর্কে তার ভাই বলেই দাবি করেন যুবতী।

গত তিন ধরে ওই ব্যক্তিও হাসপাতালে রাত কাটিয়েছেন। রোববার মা ও বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি হাসপাতাল ছাড়েন।

ওইদিনই হাসপাতাল চত্বর থেকে অটোয় চেপে সদ্যোজাতকে কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যান।

কেন বাচ্চাটিক মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার সদুত্তর দিতে পারেননি অটোয় থাকা ওই যুবতীও। পরে ওই যুবতীও গা ঢাকা দেয়। এ অবস্থায় শিশুটিকে বেলরির বেবি কেয়ার সেন্টারে রাখা হয়েছে।

চাইল্ড প্রোটেকশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সারভার জানান, সদ্যোজাত শিশুকন্যার বাবা-মার খোঁজ চলছে। যতদিন না খোঁজ মিলছে বেবি কেয়ার সেন্টারেই তাকে রাখা হবে। ঘটনাটি কর্নাটক শিশু ও মহিলা কল্যাণ দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে।

হসপেটের ডেপুটি পুলিশ সুপার কুমারচন্দ্রা জানান, অটোচালকের জবানবন্দিতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।