মেইন ম্যেনু

বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি

জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মঙ্গলবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের (সিলেট-৫) টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের দেওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়মিত ঋণ মঞ্জুর, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া তিনি ব্যাংকটির অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ২৭ কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করেন। এরা হলেন- প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম সাজেদুল ইসলাম, কাজী ফখরুল ইসলাম, প্রাক্তন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মঞ্জুর মোরশেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুস সোবহান, কনক কুমার পরুকায়স্থ, সেলিম খান, সাময়িক বরখাস্তকৃত উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ মোনায়েম খান, মহাব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন, মনিরুজ্জামান, গোলাম ফারুক খান, সাময়িক বরখাস্তকৃত মহাব্যবস্থাপক খন্দকার শামীম হাসান, চাকরিচ্যুত মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী, প্রাক্তন উপমহাব্যবস্থাপক কোরবান আলী, উপমহাব্যবস্থাপক ওমর ফারুক, চাকরিচ্যুত উপমহাব্যবস্থাপক শিপার আহমেদ, সাময়িক বরখাস্তকৃত উপমহাব্যবস্থাপক এস এম ওয়ালিউল্লাহ, সহকারী মহাব্যবস্থাপক জহির উদ্দিন, ইমরুল ইসলাম, আবদুস সবুর, আবদুস সাত্তার খান, পলাশ দাশ গুপ্ত, ইকরামুল বারী, প্রাক্তন সহকারী মহাব্যবস্থাপক সরোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপক মুহিবুল হক, চাকরিচ্যুত উপব্যবস্থাপক এস এম জাহিদ হোসেন, উপব্যবস্থাপক এন তৌফিকুল আলম।

মন্ত্রীর দেওয়া তালিকায় ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ আছে। এগুলো হল- আজাদ ট্রেডিং, ভাসাবি ফ্যাশন, তাহমিনা ডেনিম, লাইফ স্টাইল ফ্যাশন মেকার, ইউকে বাংলা ট্রেডিং, তাহমিনা নিটওয়ার, ফারশি ইন্টারন্যাশনাল, খাদিজা অ্যান্ড সন্স, লিটল ওয়াল্ড, এআরএসএস এন্টারপ্রাইজ, আমিরা শিপিং এজেন্সি, এশিয়ান শিপিং বিডি, এসএফজি শিপিং লাইন, মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, ফাস্ট অ্যান্ড বেস্ট ট্রেড ইমপেক্স, ট্রেড হাউজ, এশিয়ান ফুড ট্রেডিং, সুরমা স্টিল অ্যান্ড স্টিল ট্রেডিং, সিলভার কম ট্রেডিং, সিনটেক্স, বি. আলম শিপিং লাইনস, এস এল ডিজাইনার, তানজিনা ফ্যাশান, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, নাহার গ্রাডেন (প্রা.)লি., এল আর ট্রেডিং, সৈয়দ ট্রেডার্স, রুদ্র স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, নিউ অটো ডিফাইন, টেলিউইজ ইন্টারন্যাশনাল লি., ডায়নামিক ট্রেডিং, আহমেদ ওয়েলস মিলস, বিথী এন্টারপ্রাইজ, ওমারেল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, এমারেল্ড অটো রিকস, প্রোপেল ইন্টারন্যাশনাল, আর আই এন্টারপ্রাইজ, গুঞ্জন এগ্রো এরামেটিক অটো রাইস মিল, হক ট্রেডিং, ভয়েস এন্টারপ্রাইজ, হাসিব এন্টারপ্রাইজ, এস ও এস ব্রাদার্স, আলী কন্সট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স, বাশার এন্টারপ্রাইজ, ওমারেল্ড ওয়েল লি., সিমেক্স, আর কে ফুডস, সৈয়দ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভোলপারস, রিলায়েন্স শিপিং লাইনস, সৈয়দ কনস্ট্রাংকস, নীল সাগর এগ্রো ইন্ড্রাট্রিজ, নীল পরিসাগর এগ্রো ইন্ডাট্রিজ (ফিড মিল ইউনিট), পারমা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়াকর্স, এমারেল্ড ড্রেস, বর্ষণ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, আজবিহা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গৃহীত ব্যবস্থার কথা তুল ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের গত ৬ জুলাই ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকারকে চেয়ারম্যান করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে।

এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে বিভিন্ন থানায় ৫৬টি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান, ৮টি সার্ভেয়ার প্রতিষ্ঠানের ১১জন মালিক কর্মকর্তা এবং ২৭ জন ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করেছে। এফআইআর দাখিল পরবর্তী মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তানাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী আরো জানান, অনিমিতভাবে আইনি বিল পরিশোধের জন্য তিনজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং একজন মহাব্যবস্থাপককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।