মেইন ম্যেনু

প্রতিকারের উপায় জেনে চাষীরা খুশি

ঝাউডাঙ্গা ইউপি’র পাথরঘাটার আম বাগান এ্যানথ্রাকনোজ রোগে আক্রান্ত

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আম বাগানগুলোতে ব্যাপকভাবে এ্যানথ্রাকনোজ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে করে আম গাছের ছোট ছোট ডাল শুকিয়ে গেছে,পাতার অর্ধেক অংশ শুকিয়ে গেছে। আমের বোল আসার পূর্ব মুহুর্তে গাছে এ ধরনের রোগ বালাইয়ের কারনে আসন্ন মৌসূমে এলাকায় আমের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার অশংঙ্খা দেখা দিয়েছে।

ঐ গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া আক্তারের আম বাগান,বারিক গাজীর আম বাগান, প্রভাষক বেলাল হোসেনের আম বাগন ,আব্দুর রহমানের আম বাগানসহ প্রায় ২০ / ২৫ টি আম বাগান ঝাউডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের একদল সাংবাদিক মঙ্গলবার সকালে পরিদর্শনে যান। ঐ সময় তারা সংশ্লিষ্ঠ আম বাগানের মালিক ও এলাকার আম চাষীদের সাথে কথা বলেন। সুফিয়া আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তার আম বাগানে ৩০/৩৫ টি বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। গত দু’তিন মাস ধরে আম গাছের অবস্থা খুবই ভাল ছিল। হঠাৎ করে গত ১০/১২ দিন আগে থেকে গাছের ছোট ছোট ডাল ও বেশ কিছু পাতা শুখিয়ে যেতে দেখেন।

উপস্থিত সাংবাদিকগণ আশ পাশের আম বাগান গুলোতে একই অবস্থা দেখতে পান। এ ব্যাপারে সাংবাদিকগণ বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ও কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মোহাম্মদ মোহাইমেনুল ইসলামের সাথে কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তাৎক্ষনিকভাবে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ হাসান রেজাকে এলাকাটি পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

শেখ হাসান রেজা ঐ সময় আম বাগান গুলো পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা দেখতে পান। তিনি এ সময় উপস্থিত আম চাষীদেরকে জানান,এটা হলো এ্যানথ্রাকনোজ রোগ। আম গাছ এ রোগে আক্রান্ত হলে গাছের ছোট ছোট ডাল এবং পাতা শুখিয়ে যায়। সঠিক সময়ে এর প্রতিকার না করলে গাছে বোল কম হবে এবং আমের ফলন ও কমে যাবে। উপস্থিত কৃষকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, আম গাছে পাতা শোষক নামে এক ধরনের পোকার আক্রমন হতে পারে। ঐ পোকার আক্রমণ হলে আমের বোল এর রস চুষে খেয়ে নেই। এতে আমের ফলন কম হওয়ার আশংঙ্খা থাকে।

এর প্রতিকার হিসেবে তিনে বলেন, এ রোগ প্রতিকারের এখনই সময়। গাছের আক্রান্ত ডাল গুলো কেটে দিয়ে এবং সঠিক মাত্রার ঔষধ স্প্রে করার পরামর্শ দেন। এবং আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে আরও একবার স্প্রে এবং আম গাছ সহ বিভিন্ন প্রকার কৃষি সমস্যার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

এর ফলে এলাকার আম চাষীরা এবারের আমের মৌসূমে তাদের ব্যাপক আমের ফলন হবে এই আশায় বুকে বেধেছেন।