মেইন ম্যেনু

ঝিনাইগাতীতে সবজি চাষে বহু কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবজি চাষ। ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় প্রান্তিক চাষীরা সবজি চাষের দিকে ঝুকছে। সবজি চাষ করে এ উপজেলার শতশত কৃষক পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গারো পাহাড়ের উচু জমিগুলোতে সেচ সুবিধার অভাবসহ নানা কারনে যুগ যুগ ধরে ধান চাষ হতো না। কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এসব জমিগুলোতে এখন পুরোদমে সবজি চাষ হচ্ছে। ধানচাষের তুলনায় সবজি চাষ অধিকহারে লাভজনক হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের দেখাদেখি বড় বড় চাষীরাও সবজি আবাদে জড়িয়ে পড়ছে।

বর্তমানে গারো পাহাড়ে সারা বছরই নানাজাতের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার কৃষক সবজি আবাদের সাথে জড়িত। এ বছর ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৯শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে।

কৃষকদের উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে কাকরোল, বরবটি, করল্লা, ঝিঙা, ঢেড়স, চিচিংগা, শশা, শিম, আলু, বেগুন, চালকুমড়া, লাউ, মিষ্টিলাউ, টমেটো, মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ প্রভৃতি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশিরভাগ কৃষক সবজি চাষের উপর নির্ভরশীল।

বাণিজ্যিক ভিত্তিত্বেই এ উপজেলায় এখন সবজি চাষ হচ্ছে। এখানে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার বনগাও, জিগাতলা, ভারুয়া, ফাকরাবদ, বাঐবাধা, হলদিগ্রাম, সন্ধ্যাকুড়া, তাওয়াকুচা, শালধা, কালিনগর, সুরিহাড়া, চতলসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি তোলার পর ক্ষেতেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন।

তাওয়াকুচা গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, তিনি এবার ৩ একর জমিতে ৪০ হাজার বাধাকপির চারা রোপন করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

তিনি আশা করছেন, তার উৎপাদিত বাধাকপি ৫ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। শালধা গ্রামের নবি হোসেন, বনগাও গ্রামের রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহীম, আনোয়ার, শমশের আলী, জারুলতরা গ্রামের বাবুল মিয়া, হলদিগ্রামের আব্দুল্লাহ, গারোকোনা গ্রামের আব্দুল গফুর, গোমরা গ্রামের জামাল ভান্ডারী, ফাকরাবাদ গ্রামের আমির আলী, কালিনগর গ্রামের চাঁন মিয়ার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সবজি চাষ শুরু করার পূর্বে তাদের সংসারে অভাব অনটন দূর হয়নি। আর এখন তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।