মেইন ম্যেনু

ঝোপের মধ্যে নবজাতক!

সূর্যের আলো তখনও ফোটেনি। ঝোপের মধ্য থেকে আসছিল এক শিশুর কান্না ও চিৎকার। শুনতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ আন্না বেগম ঝোপের কাছে গিয়ে দেখতে পান, সারা শরীরে রক্ত ও ধুলোবালিতে মাখামাখি এক নবজাতক পড়ে আছে। পিঁপড়া ও পোকামাকড়ের কামড়ে তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল কন্যাশিশুটি। আন্না বেগম তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তার ঠাঁই হয় নিঃসন্তান এক দম্পতির কোলে। খবর-সমকাল

শনিবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর রমজান মাতব্বরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই নবজাতকের পরিচয় এবং কে বা কারা তাকে ফেলে গেছে তা জানা যায়নি।

আন্না বেগম জানান, ভোরে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়ি এনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। শিশুটি শুক্রবার রাতেই জন্ম হয়েছে এবং শেষ রাতের দিকে তাকে কেউ ঝোপে ফেলে রেখে গেছে বলে তিনি ধারণা করেন।

এদিকে, পাশের বাড়ির ছানোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী ছালমা বেগম খবর শুনে আন্না বেগমের বাড়িতে ছুটে যান। নয় বছরের সংসার জীবনে নিঃসন্তান এই দম্পতি শিশুটিকে চাইলে আন্না বেগম ছালমা বেগমের কোলে শিশুটিকে তুলে দেন। এ দম্পতি সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আশীষ কুমার বড়াল জানান, শিশুটির সারা শরীরে পোকামাকড়ের কামড়ের দাগ রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একদিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, তারা শিশুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করতে চান। শিশুটিকে পেয়ে আমার শূন্য কোল পূর্ণ হয়েছে। আমি তার নাম দিয়েছি সুমাইয়া আক্তার রোজা।

গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিশুটির ব্যাপারে পুলিশকে কেউ কিছু নায়নি। তবে শিশুটির সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার বিষয়টি আগে জরুরি। এ বিষয়ে খবর নেওয়া হবে।