মেইন ম্যেনু

টাইগারদের শুভ কামনা জানিয়ে চলছে দান-খয়রাতও

‘ধর্ম-বর্ণ, জাত-বিদ্বেষ ভুলে গলায় গলা মিলিয়ে আমাদের আজ একটাই আওয়াজ, বাংলাদেশ জিতুক। হাজারো অস্ত্রোপচার উপেক্ষা করে তীব্র গতিতে বল নিয়ে দৌড়ে যাওয়া এ দলটা ১১ জনের না, এ দল যে ১৬ কোটি মানুষের। ইন-শা-আল্লাহ, আজ আমরাই জিতবোই।’

এমনটাই বলছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন। কথা হচ্ছিল এশিয়াকাপের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে। পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠায় সারাদেশ এখন উচ্ছ্বাসে হাবুডুবু খাচ্ছে। চলছে দোয়া আর শুভকামনা। পিছিয়ে নেই সিলেটও। আজ ভারতকে হারাতে পারলে সিলেটবাসী নগরীর অলি-গলি থেকে মিছিল বের হবে। মিষ্টির দোকানদাররাও নিয়েছেন প্রস্তুতি। শুধু তাই নয়, টাইগারদের শুভকামনা জানিয়ে চলছে দান-খয়রাতও।

মুস্তাফিজ, সাকিব, তামিম ও মাশরাফির ছবি দিয়ে বানানো হয়েছে পোস্টার। মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ না পেলেও সেগুলো নিয়েই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হচ্ছে। শিবগঞ্জস্থ স্কর্লাসহোম ক্যাম্পাসের ফুটসাল গ্রাউন্ডে বড়পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করেছেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা। এ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা রোমান পারভেজ বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে আবেগ আর উৎসাহ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ঘিরে, তা আরো উদ্দীপনাময় করার জন্যই এই আয়োজন।’

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার পয়েন্টে বড়পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার বলেন, ‘রাজনীতির পাশাপাশি ছাত্রলীগ সবসময় তরুণ প্রজন্মের সুখে দুঃখে থাকার চেষ্টা করে। এই ফাইনালকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে আবেগ আর উৎসাহ, তা আরো উদ্দীপনাময় করার জন্যই এই আয়োজন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল ম্যাচ বড়পর্দায় দেখার জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানান।’

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান বলেন, ‘ভারতকে হারাতে পারলে নগরজুড়ে মিছিল করা হবে। এছাড়াও নগরীতে মিষ্টি বিতরণেরও প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।’

আশায় বুক বেঁধে আছে পুরো দেশ। সিলেটও তাই। কথা হয় নূর হোসেন রাব্বী নামের এ যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সেই পাকিস্তনকে হারিয়েই স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ। আমার এবং আমাদের সবার আশা এশিয়া কাপ টি-২০টি ট্রফি টাইগারদের ঘরেই আসবে।’

নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারের বাসিন্দা নূর হোসেন রাব্বী আরো জানান, টাইগারদের জয়ের পর মিছিলে অংশ দিতে গতকাল শনিবার একটি জাতীয় পতাকা ক্রয় করেছেন। সেই পতাকা নিয়েই তিনি আনন্দ মিছিলে অংশ দিবেন। তারা এক সঙ্গে ৫০ থেকে ৭০ জন মিছিলে অংশ নেন বলে জানান রাব্বী।

আবুল হোসেন নামের এক রিকশা চালক বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা হলে আমি কাজ-কাম সব কিছু ফেলে টিভির সামনে বসি। পুরো খেলা না দেখে আমি উঠি না। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য আমি প্রস্তুত।’

তিনি জানান, বাংলাদেশ-বনাম ভারতের খেলাটি সরাসরি দেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারছেন না।