মেইন ম্যেনু

টাইটনিকের অন্য ইতিহাস, যা আপনার এখনো অজানা

বিলাসবহুল যাত্রা। তারপরেই মাঝ সমুদ্রে হারিয়ে যায় টাইটনিক। প্রচলিত মত, হিমশৈলে ধাক্কা লেগেই সলিল সমাধি হয়েছিল এই জাহাজের। এরপর কেটে গিয়েছে ১০০টা বছর। সম্প্রতি টাইটনিক ডুবে যাওয়ার অন্য কারণ তুলে আনছেন গবেষক সেনান মলোনি। শুধু তাই নয়। আইরিশ গবেষক উড়িয়ে দিচ্ছেন দুর্ঘটনার তত্ত্বও।

ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক। এই দীর্ঘ পথটা রূপকথার মতো সাজানো গোছানো। এই সুযোগ কেউ ছাড়ে! তাই হয়ত বিলাসবহুল টাইটনিকে সওয়ার হয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু বিলাসিতার ইচ্ছেটাই কাল হল। অতলান্তিকের কনকনে ঠাণ্ডায় ডুবল টাইটনিক।

হিমশৈলে ধাক্কা লেগেই ঘটে যায় বিশ্বের অন্যতম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এটাই ছিল এতদিন প্রচলিত ধারণা। কিন্তু একশো

বছরেরও বেশি সময় পর সেই তত্ত্বকে খারিজ করে দিচ্ছেন আইরিশ সাংবাদিক গবেষক সেনান মলোনি। তাঁর মতে, চূড়ান্ত গাফিলতির জেরেই ডুবেছিল টাইটনিক। মলোনির গবেষণায় যে তথ্যগুলি উঠে আসছে, সেগুলি হল-

০১. উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট ছাড়ার পরই টাইটনিকের একটি বয়লারে আগুন লেগে যায়। তবে আগুন লাগার বিষয়টি চেপে যাওয়া হয়।

০২. সাউদাম্পটন বন্দরেও জাহাজের বয়লারের মেরামতি হয়নি। মেরামতি হলে ১০ এপ্রিল ১৯১২-র মধ্যে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে পারত না টাইটনিক।

০৩. টাইটনিকের ক্যাপ্টেন জানতেন। তবে তিনি বিষয়টি চেপে রাখতে বাধ্য হন হোয়াইট স্টার লাইনের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জে ব্রুস ইসমের কড়া নির্দেশে।

০৪. গোটা জাহাজে আগুন লাগার আগেই নিউইয়র্ক পৌছতে চেয়েছিলেন ক্যাপ্টেন। বাড়ানো হয় জাহাজের গতি।

০৫. দ্রুত যেতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে বয়লার রুমে। প্রচণ্ড উত্তাপে নরম হয়ে যায় জাহাজের ধাতব দেওয়াল। তাই হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সহজেই ফেটে যায়।

০৬. জাহাজে কর্মী-মিলিয়ে মোট ৩ হাজারের বেশি মানুষ ছিলেন। কিন্তু জাহাজে যা লাইফ বোট ছিল তাতে সর্বোচ্চ ১১৭৮ জন যাত্রী উঠতে পারেন। অর্থাত্‍ যথাযথ যাত্রী সুরক্ষার ব্যবস্থাও ছিল না টাইটানিকে।

এই নতুন তথ্যগুলি উঠে আসার পর খারিজ হয়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনা তত্ত্বও। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, মলোনির গবেষণা প্রচলিত দুর্ঘটনার তত্ত্বের পাশাপাশি উস্কে দিল অবহেলার তত্বকেও।-জিনিউজ