মেইন ম্যেনু

‘টাকার গরম’ কাকে বলে?এই খবর পড়ুন, রক্ত গরম হবে আপনারও

ছবিতে যে সুন্দর গ্রামটি দেখা যাচ্ছে, বিশ্বমানচিত্রে তার কিন্তু আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। সেই গুরুত্বের সঙ্গে এই প্রতিবেদন সম্পৃক্ত। কিন্তু এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য নারকীয় বলে মনে হবে, যখন এর অলিগলিতে লুকিয়ে থাকা বাস্তবটির সঙ্গে পরিচিত হবেন।

আগে আসা যাক এই গ্রামটির বৈশিষ্ট্যের প্রসঙ্গে। নাম, ওবেরউইল লিয়েলি। আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না যে, গ্রামটি এককথায় অনবদ্য। এই গ্রামটি ইউরোপের অন্যতম ধনী গ্রাম। গ্রামের জনসংখ্যা ২২ হাজার। তার মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি হলেন মিলিয়নেয়ার! অর্থাৎ, এখানে অর্থের অভাব তো দূর স্থান, প্রাচুর্যই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। এই গ্রামের জীবনযাপনের মান পৃথিবীর তাবড় শহরকে লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। যে পরিমাণ সুযোগ-সুবিধে এখানে রয়েছে, তা অনেক বড় শহরেই নেই।

এইবারে আসা যাক মুদ্রার উল্টো পিঠে। সিরিয়া থেকে মূলচ্ছেদ হয়ে আসা উদ্বাস্তুরা ইউরোপে ছেয়ে গিয়েছেন। নারী-শিশু নিয়ে উদ্বাস্তুরা রয়েছেন চরম সংকটে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। সঙ্গে যোগ হয়েছে মাথার উপরে ছাদের অভাব। শরণার্থী ক্যাম্প ভর্তি। যোগ করে নিন ইউরোপবাসীর একাংশের ঘৃণা এবং অপমান। হামেশাই কপালে লাথি-ঘুসি জুটছে বলে অভিযোগ।

এই অবস্থায় উদ্বাস্তুদের ইউরোপের নানা গ্রাম এবং শহরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করেছে বিভিন্ন দেশের সরকার। সুইজারল্যান্ডের এই ধনী গ্রামটিতে মাত্র ১০জন শরণার্থীকে ঠাঁই দিতে বলা হয়েছিল? তার পরে কী ঘটেছে জানেন? নারী-শিশু মিলিয়ে ওই ১০জনকে ঠাঁই দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামে ভোট হয়েছে! ভোটের ফল? দেখা গিয়েছে, যারা ঠাঁই দেওয়ার পক্ষে, তাদের সংখ্যা একেবারেই তলানিতে! ওই ১০জনের জায়গা হয়নি এই গ্রামে।

গ্রামের মেয়র আন্দ্রিয়াজ গ্লার্নারের কথায় অর্থের অহমিকা স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বলা হয়নি এই উদ্বাস্তুরা সিরিয়া থেকে এসেছেন না অন্য কোনও দেশের গরিবগুর্বো লোক। সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের সাহায্য করা হয়েছে। উদ্বাস্তু ক্যাম্পে টাকা পাঠিয়ে দিলে তাদের বেশি সুবিধে হয় বলেই মনে করি। হ্যাঁ, প্রয়োজনে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ওদের এখানে ঘর তৈরি করে বসবাস করতে দিলে ভুল বার্তা যাবে। এদের দেখে বাকিরাও সমুদ্র পেরিয়ে, স্মাগলারদের টাকা খাইয়ে এখানে আসতে চাইবেন। তাতে তো ওদেরই প্রাণ যাবে, তাই নয়?’

গ্লার্নারের যুক্তিতে এখানেই দাঁড়ি পড়েনি। তিনি বলেছেন, ‘ওরা তো আমাদের ভাষায় কথা বলতে পারবেন না। ওদের সন্তানরা যদি এখানকার স্কুলে যায়, তাহলে কী হবে?’ এবেলা