মেইন ম্যেনু

টাকার লোভ নয়! ছোকরা চোরের গাড়ি চুরির কারণ শুনে তাজ্জব পুলিশ…

ছোট থেকেই এসি ঘরে ঘুমোনো এবং দামি গাড়ি চড়ার শখ ছিল। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থায় তা সম্ভব নয়। নিজেই অবশ্য সমস্যার সমাধাননকরে ফেলেছিল দিল্লির বাসিন্দা ১৯ বছরের অমৃত সিংহ। দামি গাড়ি চুরিতে হাত পাকানো শুরু করে সে। চুরি করা গাড়ি চেপেই রাতে লং ড্রাইভে বেরিয়ে যেত এই চোর।

এসি চালিয়ে নাক ডাকিয়ে গাড়ির মধ্যেই ঘুমোত। তবে গাড়ির ক্ষেত্রেও বেশ খুঁতখুঁতে ছিল এই চোর। হন্ডা সিটি ছাড়া অন্য গাড়ির প্রতি সেরকম আগ্রহ ছিল না। প্রতিবেশীর এক গাড়ি চুরি করে ধরা পড়ার পরে অমৃতের কাছ থেকে এই সমস্ত তথ্য পেয়ে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। কারণ, অমৃতই পুলিশকে নিজের আজব শখের কথা জানিয়েছে।

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পূর্ব দিল্লির বাসিন্দা অমৃত একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে। ১২ বছর বয়সেই গাড়ির ব্যাটারি এবং যন্ত্রাংশ চুরি করা শুরু করে সে। হাত পাকানোর পরে গোটা গাড়ি চুরি করা শুরু করে অমৃত।

গ্রেফতারের পরে তার কাছ থেকে হাফ ডজন হন্ডা সিটি এবং একটি স্কুটার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি নিজের প্রতিবেশীর একটি গাড়ি চুরির সময়কার ছবি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। তার সূত্র ধরেই পুলিশ অমৃতকে গ্রেফতার করে। চুরি করা স্কুটার বিক্রি করে রাতভর গাড়ি চালানোর পেট্রোল কিনত অমৃত। কিছুদিন একটি গাড়িতে এলাহি চালে ঘোরার পরে সেটি কোথাও ছেড়ে দিত।

পুলিশ জানিয়েছে, রাতভর গাড়ি চড়ে প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড় করত অমৃত। এই চোর পুলিশকে আরও জানিয়েছে, এসি ছাড়া ঘুম আসত না বলে গাড়ির মধ্যেই এসি চালিয়ে ঘুমোত সে। গত ডিসেম্বরেও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল অমৃত। শেষ পর্যন্ত নিজের মাকে বুঝিয়ে জামিনের ব্যবস্থা করে।

অগস্ট মাসে জামিন পাওয়ার পরেও অবশ্য দামি গাড়ির প্রতি মোহ কাটেনি। তাই ফের চুরি শুরু করে সে। বুধবার আবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অমৃতের পরিবারের অবশ্য দাবি, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনায় বেশ ভাল ছিল সে। তার পরে খারাপ সঙ্গে পড়ে চুরিতে হাত পাকায় অমৃত।