মেইন ম্যেনু

তিন দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি সুন্দরবনের আগুন

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের তুলাতলা এলাকায় বুধবার লাগা আগুন ৩য় দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিক্ষিপ্তভাবে এখনও বনের গহীনে জ্বলছে আগুন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজ শেষ করার পর শুক্রবার সকাল থেকে আবারও আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়েছে।

বাতাসের সঙ্গে তীব্র তাপ প্রবাহ, পানির স্বল্পতা এবং লোকবলের অভাব এবং কয়েক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নেভাতে কষ্ট হচ্ছে। গত দু`দিনে বনের এক প্রান্তের আগুন নেভাতে পানি ছিটানো হলেও অপর প্রান্তে এখনও পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ অবস্থায় সুন্দরবনের আগুন নেভাতে মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, বাগেরহাট ইউনিটের সঙ্গে যোগ দিয়েছে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট।

২৭ এপ্রিল বুধবার বিকালে সুন্দরবনের যে স্থানে আগুন লেগেছে সেখানে মূল্যবান সুন্দরী, গরানসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এ অবস্থায় তিনদিন ধরে সেখানে জ্বলতে থাকা আগুন দ্রুত নেভানো না গেলে বনের বড় রকম ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আগুন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান বেলায়েত হোসেন জানান, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার যারা বনে আগুন লাগিয়ে ছিল তারাই চতুর্থ বার বনের গভীরে তুলাতলায় আগুন লাগিয়েছে। এবার দুষ্কুতিকারীরা ওই বনের একাধিক স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে আগুন দিয়েছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগুন লাগার স্থানটিতে সুন্দরীসহ মূল্যবান বৃক্ষ থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, মাটির উপরে থাকা শুকনো পাতা ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদে ছড়িয়ে পড়া আগুন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভক্ত জানান, আগুন নেভানোর জন্য ৪০টি হোস পাইপ দিয়ে পানি দেয়া হয়েছে। বনের অভ্যন্তরে পানি সমস্যা রয়েছে। দূরের আডুয়ার খাল থেকে শুধু জোয়ারের সময় বেশি পানি পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, বনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে আগুন লাগায় এক পাশের আগুন নিয়ন্ত্রণ করে অপর পান্তে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সেখানে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে আবার তারা বনের তুলাতলা এলাকার আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেছে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যেই বুধবার বিকেলে সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের তুলাতলার উত্তর পাশে ও আন্দারমানিক এলাকায় নতুন করে আগুন দেয়া হয়েছে। চলতি মাসের ১৮ ও ১৩ এপ্রিল চাদপাই রেঞ্জ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছিল। এর আগে গত মাসের ২৮ মার্চও চাদপাই রেঞ্জ এলাকায় আগুন লাগে। গত দুইবার বনে আগুন দেয়ার ঘটনায় আসামিদের নাম উল্লেখ করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারাই পরিকল্পিতভাবে বনবিভাগের লোকজনকে হেনস্থা করতে সুন্দরবনে অবৈধ্যভাবে প্রবেশ করে আগুন দিচ্ছে।

এদিকে, বনে গত ১ মাসে চারবার আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বন বিভাগ। এ অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনাস্থল সুন্দরবনের তুলতলায় যাওয়ার কথা রয়েছে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো.জহির উদ্দিনের।