মেইন ম্যেনু

টানা ২৫ বছর ধরে একটি বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ছবি এঁকেই চলেছেন তিনি!

২৫ বছর ধরে দেওয়ালে ছবি এঁকে চলেছেন রাশিয়ান নাগরিক ভ্যালেরি খরামোভ। বয়স ৯০ হলেও রং-তুলির আঁচড় ভালই দিতে জানেন তিনি। তাই পুরো একটি বিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেওয়ালে একাই এঁকেছেন অসংখ্য ছবি।

আগে আর্ট শিক্ষক হিসেবে কাজ করলেও পরে তা কোনো কারণে ছেড়ে দেন। তবে শিক্ষকতা ছাড়ার পরে রাশিয়ার ইয়েকাটেরিংবার্গ শহরের ১৬৮ নম্বর বিদ্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেন তিনি। বিদ্যালয়ে সব-সময় কাজ থাকে না। তাই বলে অবসর সময় নষ্ট করেননি সাবেক এই আর্ট শিক্ষক। বরং বিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেওয়ালে এঁকে চলেছেন ছবির পর ছবি।

এভাবেই ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর টানা ২৫ বছর ধরে ছবি আঁকছেন তিনি। দেহের বয়স বাড়লেও মনের বয়স বাড়েনি তার। তাই তিনতলা বিদ্যালয়ের সর্বত্র রয়েছে খরামোভ আঁকা নানা ধরনের ছবি। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, পরিবেশ, প্রকৃতি ও রূপকথা নিয়ে তার এই ছবিগুলো।

02-_2

শিল্পী ভ্যালেরি খরামোভের কাজে কখনো বাধা দেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বরং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা টাটিয়ানা ইয়াটকিনার অভিমত, ‘যখন কেউ আমাদের বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসেন তখন খরামোভের কাজ দেখে মুগ্ধ হন। আর বিদ্যালয়ের শিশুরাও দেওয়াল ম্যুরাল খুব পছন্দ করে। তাই বিদ্যালয় ছুটির পর বা বিরতির সময় তারা হুড়োহুড়ি করে না। বরং তারা শান্ত হয়ে দেখে দেওয়ালে আঁকা ছবিগুলো।’

শিশুদের কথা মাথায় রেখেই নিয়মিত ছবি আঁকেন খরামোভ। তাই রাশিয়ান এই বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘শিশুরা রঙিন দুনিয়ায় বসবাস করে। ওদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব নেই। ওরা সুন্দরের পূজারী। আর রঙের মাধ্যমে দেওয়ালে দেওয়ালে সেটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি আমি।’

03-_3

দীর্ঘদিন ধরে ছবি আঁকায় কিছু ছবির রং ঝাপসা হয়ে গেছে। আবার দেওয়ালের প্ল্যাস্টার খসে পড়ায় কিছু ছবি অর্ধেক নষ্ট হয়েছে। এমন অবস্থায়ও অবিচল এই বৃদ্ধ। বললেন, ‘আমি চাই না কেউ তা মেরামত করুক। শুধু বিদ্যালয়ে নয়, সবখানে যেখানে আমি ছবি আঁকি। তার চেয়ে বরং এটাই ভাল। আমি আসব এবং আবার ছবি আঁকব।’ বিবিসি