মেইন ম্যেনু

টিপু সুলতান ‘স্বৈরাচারী’ ছিলেন?

‘গরু ও সহিষ্ণুতা’ ইস্যুর পর এবার ভারতের রাজনীতির গরম মসলা হয়ে উঠেছে শেরে মহীশূর টিপু সুতলান। বুধবার টিপু সুলতানের জন্মদিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে নিহত হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। আহত হয়েছে এক যুবক।

শক্তি ও সাহসে টিপু সুলতানের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি নিহত হন। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দাবি করছে, মহীশূরের বাঘ টিপু সুলতান ‘স্বৈরাচারী’ ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ধারণ করতেন না। ‘অসহিষ্ণু’ ছিলেন তিনি। ভারতীয় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হতো তার শাসনামলে। ফলে ভারতের মাটিতে টিপু সুলতানের মতো স্বৈরাচারী শাসকের জন্মদিন ঘটা করে উদযাপনের কোনো কারণ নেই।

বিজেপির এই দাবির জবাব দিয়ে কর্ণাটক রাজ্য সরকার বলেছে, ‘টিপু সুলতান কাউকে ধর্মান্তরিত করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। মহীশূরের সুলতান হিসেবে তিনি মসজিদের পাশাপাশি মন্দিরগুলোও রক্ষা করেছিলেন। দেশের প্রতি তার ভালোবাসা নিয়েও কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। নিজের দুই ছেলেকে তিনি ব্রিটিশদের কাছে জামিন রেখেছিলেন।’

কিন্তু এতে খুশি হতে পারেনি বিজেপি। যে কারণে বুধবার টিপু সুলতানের জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এ দিন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায় পক্ষে-বিপক্ষের লোকজন। সৃষ্টি হয় সংঘর্ষ। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে সময় লেগেছে তাদের।

কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সরকার যখন টিপু সুলতানের জন্মদিন উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন সবারই উচিত ছিল সহযোগিতা করা। কিন্তু কিছু মানুষ সমাজে মেরুকরণের চেষ্টা করছে। যে কারণে দুভার্গজনকভাবে এদিন একজনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, শেরে মহীশূর টিপু সুলতান ১৭৫০ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মদিন উপলক্ষে এবার কয়েক দিন আগেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কর্ণাটক সরকার। ১৭৯৯ সালের ৪ মে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।