মেইন ম্যেনু

টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ বেড়ীবাধঁ পুনঃ নিমার্ণের উদ্যেগ নেই: উৎকন্ঠায় দ্বীপবাসী

ফয়েজুল ইসলাম রানা, টেকনাফ: দীর্ঘ প্রায় এক যুগের কাছাকাছি হলেও টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের সর্বনাশা বেড়ীবাধঁ এখনও পুনঃ নিমার্ণ হয়নি। ফলে উদ্যেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে দ্বীপবাসী। কবে নাগাদ এই দ্বীপের ভংগ্নাংশ বেড়ীবাধঁ পুনঃ নিমার্ণ হবে তার কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছেনা।

জনপ্রতিনিধি হতে আরম্ব করে মন্ত্রী মিনিষ্টার পর্যন্ত বাধেঁর দূর্ভোগত লোকজনদেরকে আশ্বাস আর আশ্বাস দিয়ে কাল ক্ষেপন করছে। শুধু বেড়ীবাধঁ কেন সাগরের প্রচন্ড ঢেউর কারণে টেকনাফ হতে শাহপরীরদ্বীপের হারিয়াখালী রাস্তার মাথা হতে তিনপুলের মাথা পর্যন্ত প্রায় ৫কিলোমিটার পাকাঁ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা দ্বীপের লোকজন। এদের যোগাযোগের কোন বিকল্প সড়ক না থাকায় বোট আর ষ্টিমার নির্ভর হয়ে পড়েছে। এই বোট আর ষ্টিমার দ্বীপবাসীর গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রচুর জোয়ার হলে সাগরের প্রচন্ড ঢেউতে অরক্ষিত বেড়ীবাধঁ ভেঙ্গে গিয়ে গোটা দ্বীপ জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

গ্রামের পর গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। দূর্ভোগের অন্ত থাকেনা দ্বীপের লোকজনের। শুকনো মৌসুমে লোকজন একটু কষ্ট করে হলেও টেকনাফের সাথে যোগাযোগ করতে পারলেও বর্ষা আসলে দ্বীপবাসীর দূর্ভোগ চরমে উঠে। ইহা দীর্ঘ প্রায় ৮/৯বছর হতে চললেও সরকাররের জনপ্রতিনিধি উর্ধতন আমলা, মন্ত্রী দ্বীপবাসীকে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু বেড়ীবাধঁ পুনঃ নিমার্ণের কোন উদ্যেগ নেই। বর্ষা মৌসুমে গোটা দ্বীপের লোকজন জিম্মি হয়ে পড়ে। যোগাযোগ, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়ে পড়ে।

শাহপরীরদ্বীপ পরিদর্শনে দেখা যায়, সাবরাং ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ড একেবারে বিচ্ছিন্ন। এই তিন ওয়ার্ডের লোকজনদের সাথে অন্যান্য ওয়ার্ডের লোকজনদের কোন সহজ যোগাযোগের কোন মাধ্যম নেই। বর্ষা আসলে ছোট ছোট নৌকা, ষ্টিমার নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে টেকনাফে আসা যাওয়া করে। তাও সকাল ৬টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এ সময় গড়িয়ে গেলে টেকনাফে রাত যাপন ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ থাকেনা।

যারা অর্থশালী, বিত্তশালী লোকজন দৈনন্দিন আসা যাওয়া করতে পারলেও নি¤œ বিত্ত লোকজন আসা যাওয়া করতে পারেনা। ফলে তারা পুরো বর্ষা মৌসুমে অর্ধহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করে। এছাড়া দীর্ঘ ৮/৯বছর ধরে দ্বীপের ছেলে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসচ্ছেন।

এ ছাড়া কোন মুমূর্ষ রোগী মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে যোগাযোগের মাধ্যম না থাকায় জীবন্ত কবরে দেওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকেনা। আয় রোজগারের কোন পথ নেই। কেন না সর্বনাশা সাগরে দ্বীপবাসীর স্থায়ী, অস্থায়ী সমস্ত সম্পদ পানিতে গ্রাস করে নিয়েছে।

দ্বীপবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দ্বীপবাসী। কোন দেশের বাসিন্দা। শাহপরীরদ্বীপ কি বাংলাদেশের অংশ নয় কি? কেন আমাদেরকে এই চির বিচ্ছিন্ন দ্বীপে হাজতবাস করতে হচ্ছে। জেলের কদিরাও আমাদের চেয়ে অনেক সুবিধার মধ্যে রয়েছে। প্রতিনিয়ত দ্বীপবাসীর মানবাধিকার লংগন হচ্ছে।

বিশ্বে এবং দেশে বড় বড় মানবাধিকার সংগঠন যে কোন বিষয়ে বড় বড় আওয়াজ তুলে অথচ আমরা দ্বীপবাসী দীর্ঘ একযুগেরও কাছাকাছি মানবেতর জীবন যাপন করলেও আমাদের জন্য একটি শব্দও করতে পারছেনা।

কবে নাগাদ শাহপরীরদ্বীপ বেড়ীবাধঁ নির্মিত হবে, কখন এই দ্বীপের লোকজনদের মুখে হাসি ফুটবে, কে বেড়ীবাধঁ নিমার্ণে এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশার প্রহর গুনছেন গোটা দ্বীপের ৩৫হাজার দ্বীপবাসী।