মেইন ম্যেনু

ট্রাইব্যুনালে বাড়তে পারে মামলা জট

মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের সর্বোচ্চ এবং বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রদাণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২। তবে মামলার সংখ্যা ও গুরুত্ব কমে আসায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ কে নিষ্ক্রিয় এবং ট্রাইব্যুনাল-১ কে পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের প্রায় ৩ মাসের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আবারো যুদ্ধাপরাধীদের মামলার সংখ্যা ও গুরুত্ব সমানভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ফলে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে ট্রাইব্যুনাল-২ সক্রিয় করার। নইলে আগামী ২ মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মামলা নিয়ে জট সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন পক্ষ।

প্রসিকিউটর সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, ‘এই মূহূর্তে ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাশাপাশি আরেকটি ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করা অত্যাবশ্যই হয়ে উঠেছে। আমাদের আইনে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৩) ট্রাইব্যুনালের সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। আবার ট্রাইব্যুনাল নিষ্ক্রিয় বা পুনরায় চালুর বিধানটিও এই আইনে বিদ্যমান। এখন শুধু এ আইনের অধীনে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করে ৩জন বিচারপতি নিয়োগ দিলেই হবে। মামলা জট পাকানোর আগেই এটি করতে হবে। নইলে জাস্টিস ডিলেড ইস জাস্টিস ডিনাইড (অর্থাৎ বিচার দেরিতে হলে তা গ্রহণযোগ্যতা হারাবে) হয়ে যাবে।’

তাই যত দ্রুত সম্ভব আরেকটি ট্রাইব্যুনালকে সক্রিয় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাইয়েদুল হক।

ট্রাইব্যুনালের অন্য আরেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল বলেন, ‘ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলার মধ্যে জট দেখা দিয়েছে। এখন সরকার ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়াবে নাকি কমাবে এটা তাদের ইচ্ছাধীন। তবে ট্রাইব্যুনাল একটি হোক আর দুটি হোক আমরা আমাদের কাজ সবসময়ের মত চালিয়ে যাবো।’

তবে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী এখনই আরেকটি ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘একটি ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে চলুক। দেখি কতদূর কি হয়। তারপর অসুবিধা হলে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করবো। তাছাড়া চলমান মামলাগুলো এখন বেশ গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পারবো।’

ট্রাইব্যুনাল-২ নিস্ক্রিয় হবার পূর্বে দুটি ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে মোট ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বাইরে চলতি বছরে যোগ হয়েছে আরো ছয়টি মামলা। আর সব মিলিয়ে এ মূহূর্তে ট্রাইব্যুনালে একসঙ্গে বিচার চলছে মোট ১৭টি মামলার। তবে খুব শিগগিরই তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য আসছে আরো ১২টি মামলা।

অপর ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করা এবং নতুন প্রসিকিউটর নিয়োগ ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন ট্রাইব্যুনালের অন্যতম ব্যস্ত প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে যে হারে মামলা বেড়েছে তাতে নিঃসন্দেহে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করার প্রয়োজন রয়েছে। বরং তা না করা হলে আগামী ২ মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে মামলা জট শুরু হবে। এখনই আমার হাতে ৮টি মামলা রয়েছে।’

তাই ট্রাইব্যুনালের যেমন সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন তেমনি তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউটরদের সংখ্যাও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন ৮টি মামলায় একা খাটছি। এসব মামলায় বেশ পড়াশুনা করতে হয়। হাতে থাকা এসব মামলা যদি শেষ করতে হয় শুধু ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সবকিছুই বাড়াতে হবে। তবে চলমান সব মামলা নিয়ে আমরা এরইমধ্যে চিন্তায় পড়ে গেছি। তাই যত দ্রুত সম্ভব ট্রাইব্যুনাল সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রসিকিউটর নিয়োগ ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু মনে করেন, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি একান্তই সরকারের ব্যাপার। তবে তিনি চান ট্রাইব্যুনালের সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। আর ট্রাইব্যুনালে মামলা যখন বেড়ে যাবে তখন সরকারই এ বিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলেই তার ধারণা।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে ট্রাইব্যুনালের নতুন আরেকটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। এরপর বেঞ্চটিতে বিচার চলে বেশ কিছু মামলার। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলার বিচার শেষ হলে ট্রাইব্যুনালের মামলার সংখ্যা ও গুরুত্ব কমে আসতে থাকায় ট্রাইব্যুনালের এই বেঞ্চটি নিষ্ক্রিয় করে সরকার।