মেইন ম্যেনু

ট্রাফিক পুলিশের ‘হলুদ তালার’ হয়রানি

রাজধানীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আমদানি করা ট্রাফিক পুলিশের ‘হলুদ তালা’ নাগরিক হয়রানির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তায় অবৈধ পার্কিংয়ের অজুহাতে এই তালা লাগিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। গাড়ি থেকে ওঠানামার সময়টুকুও না দিয়ে তালা লাগিয়ে আদায় করা হচ্ছে জরিমানা। যদিও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যথাযথ আইন মেনেই তালার ব্যবহার হচ্ছে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, ঢাকায় ভয়াবহ যানজটের জন্য ব্যস্ত রাস্তায় অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংও দায়ী। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাস্তায় অবৈধ পার্কিং ঠেকাতেই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ এক ধরনের তালা আমদানি করেছে। কিন্তু ভুক্তভোগী গাড়ির মালিকরা বলছেন, এই তালা ব্যবহারে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর ঢাকার একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা মিরপুর ১৩ নম্বর বিআরটিএ অফিসে যান। তিনি ওই কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে নামামাত্রই এক যুবক এসে গাড়ির চাকায় ‘হলুদ তালা’ লাগিয়ে দেয়। এরপরই এগিয়ে আসেন শাহ আলম নামে দায়িত্বরত এক সার্জেন্ট। তিনি ওই কর্মকর্তার হাতে এক হাজার ৫০০ টাকা জরিমানার একটি স্লিপ ধরিয়ে দেন। কর্মকর্তাটি নিজের পরিচয় দিয়ে এই জরিমানার কারণ জানতে চাইলে ওই সার্জেন্ট কোনো উত্তর না দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই কর্মকর্তা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা আইনের কেমন প্রয়োগ হলো?’

রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে সন্তানকে নিয়মিত আনা-নেওয়া করেন ফিরোজ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পুলিশের এই হলুদ তালার বাণিজ্য চলে অনেকটা কৌশলে। কারণ স্কুল শুরু ও ছুটির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে যানবাহনের চাপ বাড়বেই। সেই যানবাহন সঠিক ব্যবস্থাপনা না করে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল এসে মাঝেমধ্যেই তালা নিয়ে অভিযান চালায়। আর যানজটে থেমে থাকা গাড়িতেও তালা লাগিয়ে জরিমানার নামে অর্থ আদায় করে। এটা আইনের কেমন প্রয়োগ তা আমাদের মাথায় আসে না। অথচ একজন ট্রাফিক পুলিশ এখানে কয়েক ঘণ্টা যানবাহন ব্যবস্থাপনার কাজ করলে অবৈধ পার্কিং হয় না।’

ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন গাড়ির মালিক অভিযোগ তুলে বলেন, অবৈধ পার্কিং রোধে প্রয়োজনে তালার ব্যবহার হোক সেটা সবাই চায়। কিন্তু যানজট বা ওঠানামার জন্য ক্ষণিক থেমে দাঁড়ানো গাড়িতেও তালা লাগানোটা পুলিশের যেন নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো জনাকীর্ণ শপিং মল, অফিস, হাসপাতাল ও পার্কের সামনে তালাসহ লোক বসিয়ে রাখা হয়। গাড়ি থামামাত্রই ছদ্মবেশী এসব লোক তাতে তালা লাগিয়ে দেয়। একটু পরে সার্জেট এসে এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করে। অন্য কায়দাও অবশ্য আছে। একটু অনুরোধ করে ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিলেই তালা খুলে যায়। জরিমানা দিতে হয় না। আর জরিমানার নামে আদায় করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না তাও ভেবে দেখার বিষয়। এ ধরনের হয়রানি কয়েক মাস ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বেড়ে গেছে। তাঁরা এই ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক-পশ্চিম) ইমতিয়াজ আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, ‘যথাযথ আইন মেনেই আমরা তালা ব্যবহার করে থাকি। এই তালা কোনো ব্যক্তি পুলিশের উদ্যোগ নয়। এখানে কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ারও সুযোগ নেই। আমাদের সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।’কালের কণ্ঠ