মেইন ম্যেনু

ট্রাম্পকে জয়ী করতে পুতিনের ষড়যন্ত্র! গোপন অভিযানের তথ্য ফাঁস করল ৩ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

এক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী করার জন্য অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

এনএসএ, সিআইএ এবং এফবিআই-এর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ওই যৌথ প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে পুতিনকে দায়ী করা হয়। তিনি তার ‘পছন্দের’ প্রার্থীকে জয়ী করতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমদের মূল্যায়নে বেরিয়ে এসেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকে প্রভাবিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি করা, হিলারি ক্লিনটনকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং নির্বাচনে তার সমর্থনকে প্রভাবিত করে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। আমাদের মূল্যায়নে আরও উঠে এসেছে, পুতিন এবং রুশ সরকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে জয়ী করার ক্ষেত্রে পরিষ্কার পক্ষপাতিত্ব ছিল।’

সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নির্বাচন প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ওই প্রতিবেদনে রাশিয়ার ভূমিকার কথা বলা হলেও এ সম্পর্কিত কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সেখানে হাজির করা হয়নি।

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং ইমেইল ফাঁসের অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনকে বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ২৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল কোনও কিছুতেই প্রভাবিত হয়নি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়া, চীন, অন্য কোনও দেশ, গ্রুপ বা ব্যক্তি আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বা ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটিসহ কোনও সংগঠনের সাইবার ব্যবস্থাপনা ভেঙে ফেলাটা নির্বাচনের ফলাফলকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করেনি।’

সাইবার হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও ট্রাম্প রাশিয়া বা পুতিনের মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা ব্যবসার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা রুখতে আমাদের আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সম্পর্কে ক্ষমতা গ্রহণের ৯০ দিনের করণীয় নির্ধারণে আমি একটি দল গঠন করব।’

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সামনে এবং শুক্রবার ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, গত বছর আগস্টে প্রথম মার্কিন গোয়েন্দারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ওই ইমেইল ফাঁস হওয়ার দাবি করেছিল। তবে উপদেষ্টাদের অনুরোধ সত্ত্বেও ওবামা তখন রুশ সংযোগ প্রকাশে রাজি হননি। তার বদলে তিনি পুতিনকে সতর্ক করেছেন বলে জানান।

অক্টোবরে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আবারও রাশিয়াকে দায়ী করা হলেও ওবামা কোনও পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পরই কেবল ওবামা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সম্মতি দেন। গত ২৯ ডিসেম্বর ৩৫ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে ওবামা প্রশাসন। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স।