মেইন ম্যেনু

ট্রাম্পকে নিয়ে কী ভাবছে চীন?

চীনকে আক্রমণ করে নির্বাচনী প্রচারে বক্তব্য দেওয়া নিয়মিত বৈশিষ্টে পরিণত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিছুদিন আগে তিনি অভিযোগ করে বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মার্কিন এই ধনকুবের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধ্বংসের জন্য চীন বৈশ্বিক উষ্ণতার ধারণা উদ্ভাবন করেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের এই প্রার্থী গত বছরের ১৬ জুন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ কবে কেউ হারিয়েছিল, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি আছে? তারা আমাদের হত্যা করেছে। আমি সব সময় চীনের সঙ্গে লড়াই করতে চাই’।

চীনকে আক্রমণ করে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে কী ভাবছে বেইজিং সরকার ও সে দেশের জনগণ? যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে চীনের সঙ্গে তাদের ৩৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালে ছিল, ৩৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতির এটি রেকর্ড।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ধর্ষণ করেছে চীন। এর আগে তিনি আমদানিকৃত চীনা পণ্যের ওপর ৪৫ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেন।

ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলে তার চারটি লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া পূর্ব এবং দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের অর্থমন্ত্রী লো জিউই বলেন, চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক। তবে ট্রাম্পের সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান চীনা এই মন্ত্রী।

গত মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোন লেই বলেন, মার্কিন নির্বাচন সে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়। বাণিজ্যিক চুক্তি ও অন্যান্য ইস্যুতে দুই দেশের স্বার্থ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলে সাফ জানিয়ে দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সব শ্রেণির মানুষ যৌক্তিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টি থেকে এই সম্পর্কের মূল্যায়ন করবেন’।

চীনে গণমাধ্যমের ওপর ব্যাপক সরকারি নজরদারি রয়েছে। ব্যতিক্রমী দুই একটি ঘটনা ছাড়া চীনের গণমাধ্যমে ট্রাম্প সম্পর্কে তেমন কিছুই চোখে পড়ে না। মার্চ মাসে দেশটির প্রভাবশালী ম্যাগাজিন গ্লোবাল টাইম ট্রাম্প বর্ণবাদী বলে মন্তব্য করে। এতে সতর্ক করে বলা হয়, মুসোলিনি ও হিটলারের মতো চরমপন্থী মার্কিন ক্ষমতায় যেতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে চীনের সংবাদ মাধ্যম সোহু বিজনেস নিউজের এক প্রতিবেদনে দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কের আংশিক ক্ষয় মোকাবেলা করতে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।

চীনা ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হোন, তাহলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো জোরদার হবে; কিন্তু ট্রাম্প নির্বচিত হলে, বাণিজ্যিক ইস্যুই বিরোধের প্রধান উৎস হয়ে উঠবে। এদিকে, চীনা নিউজ ওয়েব সাইটে বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে ট্রাম্পের চীন সমালোচনাকে ‘তথাকথিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ব এশিয়া বিষয়ক গবেষক ইয়ুন সান এবিসি নিউজকে বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি খুবই আকর্ষণীয় ঘটনা। তিনি বলেন, যদিও গত কয়েক মাসে চীনের কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প, তারপরও তিনি চীনের জন্য শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ী হবেন।

চীনকে নিয়ে মার্কিন রাজনীতিকদের মন্তব্য সব সময়ই বেইজিংকে বিচলিত করে। দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে থাকা চীনা কর্মকর্তারা মনে করেন, মার্কিন অফিসে পরিবর্তন এলে তা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও পরিবর্তন আনবে।