মেইন ম্যেনু

ট্রাম্প পত্নীর মার্কিন নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে সংশয়

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচিত তার গলাবাজির জন্য, এদিকে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প আলোচিত তার নগ্ন ছবির জন্য। কিন্তু গত সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রকাশিত মেলানিয়ার নগ্ন ছবি শুদু নগ্নতাই নয়, অন্তর্নিহিত আরও কিছু প্রকাশ করছে। দেখা যাচ্ছে, স্লোভেনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মেলানিয়া সম্ভবত সঠিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান নি। যদিও এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

মেলানিয়া ট্রাম্প আগে থেকেই দাবি করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি মেনেই প্রক্রিয়া অনুসারে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তার গল্প মতে, মডেল হিসেবে তিনি প্রথমে কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছেন, পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। এই গল্পে ফাটল রয়েছে।

২০১৬ সালে নিউ ইয়র্কারকে মেলানিয়া বলেছেন, ‘আমার একবারের জন্যও কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে এখানে থাকার কথা মনে হয়নি। আমি নিয়ম মেনে চলেছি। কয়েকমাস পর পর ইউরোপ থেকে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়ে আবার এসেছি। একসময় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছি। পেয়েছি ২০০১ সালে।’

কিন্তু এই গল্পে সমস্যা হচ্ছে, মেলানিয়া একবারও পরিস্কার করে বলেন নি, কোন ভিসা তিনি ব্যবহার করেছেন । নিউইয়র্কের ডুজ্যুর ম্যাগাজনের সাংবাদিক মাইকি র‍্যাপকিন টাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি কি এইচ-১বি ভিসা ব্যাবহার করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে মডেল হিসেবে কাজ করার জন্য ? প্রতিউত্তরে তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এইচ-১বি ভিসার আওতায় মেলানিয়াকে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইউরোপ যেতে হবে না, তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে পারতেন।

বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক সংবাদ মাধ্যম পলিটিকোর প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মেলানিয়ার ঐ কথার সাথে এইচ-১বি ভিসা নয় বরং শুধু বি-১ ব্যবসায়িক কিংবা টুরিস্ট ভিসার সঙ্গতি রয়েছে। ঐ ভিসা অল্প সময়ের মেয়াদে প্রদান করা হয়, এবং ঐ ভিসার অধীনে মেলানিয়ার মডেল হিসেবে কাজ করতে পারার অনুমতি থাকার কথা নয়। এদিকে এইচ-১বি ভিসার মেয়াদে বাড়াতে তার ইউরোপ ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজেই মেলানিয়ার কথায় প্রবল অসঙ্গতি রয়েছে।

ওয়াশিংটনের একটি অভিবাসন আইন ভিতিক প্রতিষ্ঠান পলিটিকোকে জানিয়েছে, যদি মেলানিয়া ট্রাম্প বি-১ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে থাকে তাহলে মারাত্মক সমস্যা রয়েছে। কারণ এই ভিসার অধীনে কাজের অনুমতি নেই। এমনকি যদি যদি কোন কাস্টম অফিসার এমন কারো কথা জানে তাকে দেশে ঢুকতে পর্যন্ত দেয়া হবে না। কাজেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

তাছাড়া তার নগ্ন ছবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থানের দিক তারিখ নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করছে। যেমন, তিনি বলেছেন ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি, অথচ ছবিগুলো তোলা ১৯৯৫ সালে। এদিকে নিউইয়র্কে তার প্রথম রুমমেট ম্যাথিউ অ্যাটানিয়ান পলিটিকোকে বলেছে, তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে ৯৬ পর্যন্ত মেলানিয়ার সাথে ঘর ভাগাভাগি করে ছিলেন।