মেইন ম্যেনু

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু কাল

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের জন্য আগামীকাল ৯ জুলাই থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে।

৯ জুলাই থেকে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। অগ্রিম টিকিটের ট্রেন ছেড়ে যাবে ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত।

রেল সূত্রে জানা যায়, ঈদ-পরবর্তী সময়ে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। বিক্রি হবে ১৬ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এবং ফেরত আসবে ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।

এ ছাড়া স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করবে ঈদের তিন দিন আগে (১৫-১৭ জুলাই) এবং ঈদের পাঁচ দিন পরে (২০-২৬ জুলাই- চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল) ৫ জোড়া ও ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল ২ জোড়া মোট ৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে।

এর মধ্যে রয়েছে : দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল: ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা ; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। চাঁদপুর স্পেশাল-১ : চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। চাঁদপুর স্পেশাল-২ : চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। পার্বতীপুর স্পেশাল : পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর ; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। খুলনা স্পেশাল : খুলনা-ঢাকা-খুলনা ; ১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই। শোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ; কেবল পবিত্র ঈদের দিন। শোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ; কেবল পবিত্র ঈদের দিন।

এ ছাড়া আন্তনগর ট্রেনের অফ-ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৩ জুলাই থেকে ঈদের পূর্বদিন পর্যন্ত আন্তনগর ট্রেনের অফ-ডে থাকবে না। একজন যাত্রীকে সর্বাধিক চারটি টিকিট দেওয়া যাবে এবং বিক্রীত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৮৬টি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে ৮৩টি মোট ১৬৯টি (১০৯টি মিটারগেজ ও ৬০টি ব্রডগেজ) যাত্রীবাহী কোচ শপ আউট-টার্ন হবে। অতিরিক্ত ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে। কারখানায় মেরামত করে ২৫টি ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে।

এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে ১২-২৬ জুলাই সেলুন সংযোজন করা হবে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদে ট্রেন যাতে যথারীতি ছেড়ে যায় সেই চেষ্টা করব। কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না যে ট্রেন যথাসময়ে ছাড়বে কি না? তবে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। যাত্রী চাপ বেশি দেখা দিলে স্পেশাল ট্রেনের সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।

নিরাপত্তা এবং কালোবাজারি সম্পর্কে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাদাপোশাকে পুলিশ ছাড়াও রয়েছে আনসার এবং আর্মড পুলিশ।

এ ছাড়া ঢাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ সকল বড় বড় স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি ও স্থানীয় পুলিশ বিজিবি এবং র‌্যাবের সহযোগিতায় টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হবে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহণ করা হয়ে থাকে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।