মেইন ম্যেনু

ট্রেনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার এক পরিবারের ১৬ সদস্য

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১৬ সদস্য সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।

গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কমপক্ষে ২০ জন সন্ত্রাসী ট্রেনের বগিতে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে মারধর, মোবাইল ফোন ও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যায়।

সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও কয়েকজন যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় জিআরপি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

চট্টগ্রামের ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা কাজী মঈনুদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘তিনি পরিবারের ১৬ জন সদস্য নিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে গত সোমবার বিকেলে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের “ছ” নম্বর বগিতে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ফিরছিলেন। কুলাউড়া স্টেশন থেকে দুই যুবক ট্রেনের ওই বগিতে ওঠে। ওই দুই যুবক ট্রেনে ওঠার পর থেকেই আমার পরিবারের নারী সদস্যদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে।’

মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা মোবাইল ফোনে অন্য সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে। ট্রেনটি আখাউড়া জংশনে পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক ট্রেনে উঠে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর তারা পরিবারের নারী ও শিশুসহ সবাইকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আখাউড়া স্টেশনে নেমে যায়।’

হামলায় আহতরা হলেন ইয়াছিন আবরার (১৯), কাজী জাওয়াদ (১৪), জামিলুর আলম তাসিন (১৯), কায়সার জাহান (২৫) ও জাহানা আক্তার (৩২)।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় একই বগিতে থাকা অন্য যাত্রীরা পুলিশের সহায়তা কামনা করলেও পুলিশ পরিবারকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘সোমবার বিকেলে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ট্রেন আখাউড়ায় পৌঁছালে আসনে বসা নিয়ে স্থানীয় কিছু যুবকের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। ওই পরিবারের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ওই যুবকদের আটকের চেষ্টা করছি।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ হিমাংশু কুমার বলেন, ‘আক্রান্ত পরিবারটি অভিযোগ নিয়ে ঘটনার দিন আমাদের কাছে এসেছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থল আখাউড়া স্টেশন হওয়ায় আমাদের করণীয় কিছুই ছিল না। তাই তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি।’