মেইন ম্যেনু

ঠাকুরগাঁওয়ে আবারও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চোর চক্র

শরিফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: শরিফুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেটের সদস্যরা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ক’মাসের ব্যবধানে পৌরশহর এবং বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ১০০টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ঠাকুরগাঁও থেকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। তারা বয়সে তরুণ। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্থ এ তরুণরা মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও তোলপাড় চলছে। প্রতি দিনই শহর ও বাসাবাড়ি থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হলেও স্থানীয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যথা নেই। মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাসোহারা পাচ্ছেন স্থানীয় থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনটাই মনে করছে সাধারণ জনগণ। তাই কোন মটরসাইকেল চুরি গেলে তা আর উদ্ধার করতে পারে না পুলিশ। আর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অনেক সময় চুরির মামলা নিতে চায় না। তারা বলেন, জিডি করে যান পুলিশ খোঁজখবর পেলে আপনাদের জানাবে।

ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চোর আটকের বিষয়ে পুলিশ আন্তরিক নয়। যার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১৫ সালে প্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। কিন্তু দু’ একটি ছাড়া বাকিগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া অনেক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছায় না।

ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ী বাসিন্দা মিনহাজ দ্দৌলা জানান, রাতে আমার বাড়ির তালা ভেঙে ১০০ সিসির একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। কিন্তু পুলিশের কোন আন্তরিকতা পাইনি। এছাড়া গত বছরে ১০ নভেম্বর শহরের কালিবাড়ী বাজারের সামনে থেকে শহরের টিকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমনের একটি কালো রঙের পালসার-১৩৫ মোটরসাইকেল চুরি হয়।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ গাড়ি উদ্ধার করতে পারেনি। ঠাকুরগাঁও গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওইদুল ইসলাম জানা, তার একটি মোটরসাইকেল বসির পাড়া মসজিদের সামনে থেকে চুরি হয়। পরে আমি আর একটি মোটরসাইকেল কিনি। সেটাও ৪ দিন আগে বাসার গ্রিল কেটে চুরি হয়। অভিযোগ করেন নাই এমন প্রশ্নে তিনি জানান, চোরের কাছে চুরির বিষয়ে আর কি অভিযোগ করবো।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁও দৈনিক লোকায়ন অফিস থেকে সম্পাদকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। তাৎক্ষনিক পুলিশকে অভিযোগ করা হলেও পুলিশের আন্তরিকতায় অভাবে তা উদ্ধার করা যায়নি।

দৈনিক লোকায়নের সম্পাদক সাকের উল্লাহ জানান, পুলিশের কাছে অসম্ভব বলতে কিছুই নেই। ইচ্ছে করলেই পুলিশ যেকোন সময় যেকোন স্থান থেকে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারবে। কিন্তু এ বিষয়ে কেন জানি পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, প্রায় সময় মোটরসাইকেল চোরদের আটক করা হয়। পরে আবার জামিনে একই পেশায় যোগ দেয় তারা। চুরি রোধে পুলিশের আন্তরিকতার কোন ঘাটনি নেই। সাধারণ জনগণ একটু সতর্ক হলে আর চুরি হবে না।

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার ফরহাদ আহম্মেদ জানান, পুলিশ যে কোন অপরাধ দমনে সোচ্ছার। পুলিশের লোকবল খুবই কম। তাই স্বল্প সংখ্যক লোকবল দিয়ে সবার মোটরসাইকেলের নিরাপত্তা দেয়ার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সম্ভব হয়ে উঠে না। তবুও পুলিশ আন্তরিকভাবে মোটরসাইকেল চুরিসহ সকল অপরাধ দমনে তৎপর। মোটরসাইকেল চুরি রোধে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।