মেইন ম্যেনু

ঠাকুরগাঁওয়ে খরায় পুড়ছে রোপা আমন ক্ষেত

শরিফুল ইসলাম, ঠাকুরগাও প্রতিনিধি ॥ দেশের দক্ষিনাঞ্চল সহ উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় বন্যায় তলিয়ে আছে ঠিক একই সময় ঠাকুরগাঁওয়ে এখন খরা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও মধ্য শ্রাবনে বৃষ্টির দেখা নেই। তাই আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির ।

কৃষি বিভাগ গভীর নলকূপ, স্যালো পাম্প এর সাহায্যে রোপা আমন ক্ষেত সেচ দিয়ে রক্ষার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে ।সেচ দিয়েও কুলাতে পারছে না কৃষক। তাই বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা

জেলায় পরিমিত বৃষ্টি না হওয়ায় খরার প্রভাব বিরাজ করছে । কৃষক আকাশের বৃষ্টির অপেক্ষা না করেই সেচ দিয়ে রোপনের প্রাণান্তর চেষ্টা করছে । কৃষি বিভাগ জানায়, এবার জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪৮ হাজার ১৯২ হেক্টর জমির আবাদ। আর এ বছর আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৭ মেট্রিকটন।

কৃষকরা বলছেন রোপা আমন ক্ষেত সেচ দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। ধানের দাম নাই কিন্তু বাধ্য হয়ে নিজের জন্য করতে হচ্ছে আমন আবাদ ।

সদর উপজেলার জামুরীপাড়ার ওসমান আলী জানান শ্রাবন মাস শেষে হতে যাচ্ছে বৃষ্টি নাই যেটুকু বৃষ্টি হয়েছে তা দিয়ে রোপা আমর করা সম্ভব হয়নি । নদীর পানিও শুকিয়ে গেছে আমরা ক্ষেত বাচাতে স্যালো দিয়ে পানি দিচ্ছি ।

এদিকে সালন্দর গ্রামের রমিজমিয়া বলেন আকাশের পানি নাই এখন গভীর নলকুপ দিয়া পানি ক্ষেতে নিলে আমাগো টাকা দিগুন খরচ হইতাছে ।

ভুল্লী কুমার পুকুর এলাকার আব্দুল বাসেদ জানান পানির অভাবে পাট ধুতে পারছিনা ।তার কামলা খরচ বেড়ে গেছে । কামলা পাওয়াও যায় না ।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আরশেদ আলী জানান, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় ৫৫০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। যে সব উচু জমি রয়েছে সে সব জমিতে খরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় গভীর নলকুপ বা স্যালো সাহায্যে রোপা আমন করার পরামর্শ দেয়ার কথা জানান । আর জেলার যে সব জলাধার রয়েছে সেগুলো সংস্কার করা সম্ভব হলে খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন তিনি ।

খরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর এলাকা গুলোতে কৃষিবিভাগের নজরদারি ও বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বিনা মূল্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করে ।