মেইন ম্যেনু

ডাইনিকেও হার মানিয়েছেন যে মা!

শিনা হত্যাকান্ড নিয়ে সরব ভারতীয় মিডিয়া। বলা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিনা নিয়ে কোনো না কোনো খবর থাকছেই। ওর পুরো নাম শিনা বরা।

২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল শিনা খুনের বেশ কয়েক দিন পরে মুম্বই শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে রায়গড়ের জঙ্গলে পাওয়া গিয়েছিল এক যুবতীর দেহ। সেই সময়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা শুরু করে পুলিশ। পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। এ বছর মুম্বাই পুলিশের কাছে উড়ো ফোনে কিছু খবর আসার পরে তিন বছর পরে শুরু হয় শিনা হত্যার তদন্ত।

শিনা হত্যাকান্ড নিয়ে যার দিকে অভিযোগের প্রধান আঙ্গুল, তিনি শিনারই মা। নাম ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়। শিনার ডায়েরিতে যাকে ‘ডাইনি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিজের মেয়ে হলেও শিনাকেও ঘৃণা করতেন ইন্দ্রাণী, পুলিশি জেরায় সে কথাই জানিয়েছেন তিনি।

মা ইন্দ্রাণীকে যে কতটা ঘৃণা করতেন শিনা, ডায়েরির ছত্রে ছত্রে মিলেছে তার প্রমাণ। ইন্দ্রাণীকে ‘ডাইনি’ বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ইন্দ্রাণী যে তার চরম ক্ষতি করতে পারে, সে আশঙ্কার কথাও লেখা রয়েছে ডায়েরিতে। রয়েছে বাবা সিদ্ধার্থের প্রতি অভিমানও। বাবার সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ার আর্জিও জানিয়েছে কিশোরী শিনা।

মা ইন্দ্রাণীর সঙ্গে পিটার মুখোপাধ্যায়ের বিয়েকে ভাল চোখে দেখেনি শিনা। ডায়েরির এক জায়গায় লেখা, ‘এ বার এক বৃদ্ধকে বিয়ে করল মা। দাদু-দিদিমা বিষয়টিকে ভাল ভাবে নিলেও আমি নিইনি। অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ।’

পঁচিশ বছর আগে ইন্দ্রাণীকে ফেলে চলে গিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ, এখন সিদ্ধার্থর হদিস পেয়েছে পুলিশ। তিনিই যে শিনার বাবা, তার প্রমাণে ইতিমধ্যেই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থর রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে। অন্য দিকে শিনার কিছু হাড় ও দাঁতও পাঠানো হয়েছে একই পরীক্ষাগারে।

বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, ঠান্ডা মাথায় শুধু মেয়েকে খুনই নয়, যাতে কেউ ধরতে না পারে তার জন্য খুনের পর, গাড়ির ভিতরে মেয়েকে সাজিয়েও ছিলেন ইন্দ্রাণী! এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মুম্বাই পুলিশ। শিনাকে খুন করেছেন তার মা ইন্দ্রাণী এবং ইন্দ্রাণীর প্রাক্তন স্বামী সঞ্জীব খান্না।

খবরের সূত্রমতে, বান্দ্রা ন্যাশনাল কলেজের সামনে থেকে শিনাকে গাড়িতে তোলার পর কলেজের পিছন দিকে একটি গলিতে চলে যান ইন্দ্রাণীরা। সেখানে গাড়ির মধ্যেই গলা টিপে খুন করা হয় শিনাকে। খুনের পর শিনার দেহ নিয়ে ওরলির আবাসনে চলে যান তারা। পরদিন সকালে বেরিয়ে যান রায়গড়ের দিকে। গাড়ি করে শিনার দেহ রায়গড় নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তা নিশ্চিত করতে মৃত শিনাকেই মেকআপ করান ইন্দ্রাণী! লিপস্টিক লাগান। চুল আঁচড়ে দেন। তারপর শিনার দেহ গাড়ির পিছনের সিটের মাঝখানে বসিয়ে রওনা দেন রায়গড়ের দিকে। যাতে পথচলতি মানুষ দেখলে ভাবেন, গাড়িতে করে মা এবং মায়ের প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছেন শিনা!

গোয়েন্দাদের দাবি, এভাবেই শিনার দেহ রায়গড়ে নিয়ে গিয়ে বেপাত্তা করে দেন ইন্দ্রাণী এবং সঞ্জীব। এদিকে শিনা হত্যা মামলায় সামনে এসেছে আরও এক তথ্য। পুলিশ সূত্রে দাবি, শিনাকে খুনের পর শিনার নামে একটি ইমেল অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। সেই ইমেল আইডি ব্যবহার করেই শিনার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। যাতে শিনার অন্তর্ধান কারও মনে সন্দেহ না জাগায়! সেই অ্যাকাউন্ট থেকে দু বছর ধরে নিয়মিত মেল দেওয়া হয় মিখাইল, বিধি ও পিটারকে।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা ও এবিপি আনন্দ।