মেইন ম্যেনু

ডাক্তারদের অনুপস্থিতি ও দালালদের দৌরাত্ম্যে ভেঙ্গে পড়েছে ঘাটাইলের স্বাস্থ্যসেবা

ডাক্তাররা নিয়মিত ও যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও ক্লিলিকের দালালদের দৌরাত্ম্যে ভেঙ্গে পড়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আগত রোগীরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছে এবং বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা থেকে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে তখনো কোন ডাক্তার আসেনি। কিন্তু হাসপাতালের বারান্দায় বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল আর ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আনাগোনা আছে ঠিকই। ক্লিনিকের দালালরা ব্যাস্ত হাসপাতালে আসা রোগীদের পটিয়ে যার যার ক্লিনিকে নিতে। আর ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা ব্যাস্ত রোগীর ব্যাবস্থাপত্রে তাদের নিজ নিজ কোম্পানীর ওষুধের নাম লেখাতে। এ সময়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ডাক্তারদের বিভিন্ন কক্ষে ঘুরতে দেখলেও সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা ছাড়া নিদিষ্ট চেম্বার গুলিতে কোন ডাক্তারের দেখা মেলেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বহিঃবিভাগে সকল ডাক্তার উপস্থিত থাকার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখালেও এই সময় ডা. সঞ্চিতা ভৌমিক ও ডা. তাপস চন্দ্র সাহা ছাড়া আর কাউকে কর্মস্থলে দেখা যায়নি। অথচ বহিঃবিভাগে কর্মরত সকল ডাক্তার সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে উপস্থিত থাকার কথা । এ সময় ডাক্তারদের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও ডাক্তারের দেখা নেই। রোগী দেখছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসাররা। অথাৎ রোগী আছে ডাক্তার নেই। এ চিত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদিনের চিত্র নয় প্রতিদিনের চিত্র।
উপজেলার কমলাপাড়া গ্রাম থেকে আসা রোগী মনিরা বেগম জানান, তিনি সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বহিঃবিভাগের ডাক্তার দেখানোর জন্য বসে আছি প্রায় এগারটা বাজে এখনো কোন ডাক্তারের দেখা পাচ্ছি না তাই চলে যাচ্ছি। ঘোনারদেউলি গ্রামের মর্জিনা বেগম জানান ৩০ কিঃমিঃ দুর থেকে এসে ডাক্তার পাই না এরকম হাসপাতাল থাকলেও যা না থাকলেও তা।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন মোট সতের জন ডাক্তার এর মধ্যে পেষনে আছেন ডা. লুৎফর রহমান, ডা. নারায়ন চনদ্র কর্মকার, ডা. জুয়েলি রোকসানা, ডা. শাহানা পারভীন, ও ডা. সাইদুর রহমান তালুদার, । ডা. আরমান হোসেন কোন অনুমতি ছাড়াই দুই মাস যাবৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ডাক্তারদের যথা সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং অভিজ্ঞ ডাক্তাররা পেষনে চলে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হাসপাতালে আসা আগত রোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন অনেক চেষ্টা করেও ডাক্তারদের সঠিক সময়ে ও নিযমিত উপস্থিত করানো যাচ্ছেনা। বেশী চাপাচাপি করলে নিজ উদ্যোগে অন্যত্র বদলি হয়ে যায় তারা। ইতোমধ্যে ডাক্তারদের যথা সময়ে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য সতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার কারনে ডা. ইফতেখারুল ইসলাম আদনানকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি বিক্রয় প্রতিনিধিদের হাসপাতালে প্রবেশ ও ডাক্তার ভিজিট করা সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত নিষেধ থাকলেও এ নিয়ম মানেন না কেউ।রোগীদের আত্মীয়স্বজনের পরিচয় দিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিরা হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালদের কারনে হাসপাতালে আসা আগত রোগীদের নানা হয়রানিতে পড়তে হয়। ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার সময় প্রায়ই রোগীর আত্বীয় স্বজনদের সাথে ক্লিনিক দালালদের ঝগড়া বিবাদ করতে দেখা যায়।এক কথায় ঘাটাইল হাসপাতালে আসা রোগীরা ক্লিনিক দালাল চক্রের হাতে জিম্মি। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার চিকিৎসা বঞ্চিত দরিদ্র জনসাধারণ।