মেইন ম্যেনু

ডালিমের জুস লড়াই করে বয়সের সাথে!

গবেষকদের মতে, ডালিম পেশীর শক্তি বৃদ্ধিতে এবং বার্ধক্য নিবারণে সাহায্য করে। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, আমরা যখন ডালিমের রস পান করি তখন আমাদের দেহে ইউরিলিথিন এ নামক অণু উৎপন্ন হয়। এই অণু আমাদের অন্ত্রে অণুজীবে রূপান্তরিত হয়। এটি পেশীর কোষকে বয়স বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় এবং পেশীর ভর বৃদ্ধি করে।

আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কোষের মাটোকন্ড্রিয়াকে পুনরায় ব্যবহারের জন্য যুদ্ধ করতে থাকে কোষ। মাটোকন্ড্রিয়া হচ্ছে কোষের শক্তিঘর এবং বয়সের সাথে সাথে এরা কোষের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং কোষে জমা হতে থাকে। এই অধঃপতনের ফলেই পেশীসহ অনেক টিস্যু আস্তে আস্তে দুর্বল হতে থাকে এবং বয়সের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের সূত্রপাত ঘটায়।

ইউরিলিথিন এ ত্রুটিপূর্ণ মাটোকন্ড্রিয়াকে পুনরায় ব্যবহারের জন্য কোষের সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে। সুইজারল্যান্ডের রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক অ্যাবেসিচার বলেন, “এটি একমাত্র জানা অণু যা মাইটোকন্ড্রিয়াকে পরিষ্কার করার পদ্ধতির মাধ্যমে একে পুনরায় চালু করতে সক্ষম, এটি মাইটোফ্যাগি নামে পরিচিত”। তিনি আরো বলেন, “এটি সম্পূর্ণরূপে একটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং এর প্রভাব শক্তিশালী এবং পরিমাণযোগ্য”।

গবেষকগণ তাদের হাইপোথিসিস পরীক্ষা করেন বয়স্ক কেঁচোকৃমির উপর। ইউরিলিথিন এ এর সংস্পর্শে কৃমির বেঁচে থাকার হার ৪৫% বৃদ্ধি পায়। ইঁদুরের ক্ষেত্রে তা ৪২% হয়।

গবেষকদের মতে, ডালিমের রসে এই অলৌকিক অণু থাকেনা কিন্তু এর অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে। প্রাণী প্রজাতির উপর নির্ভর করে এবং অন্ত্রের মাক্রোবিয়ামের উপর নির্ভর করে উইরিলিথিন এ এর উৎপাদন ভিন্ন ভিন্ন হয়। তারা এটাও বলেন যে, সঠিক অণুজীবের উপস্থিতি ছাড়া ইউরিলিথিন এ উৎপন্ন হয়না।

সুইজারল্যান্ডের একটি লাইফ সাইন্স কোম্পানি অ্যামাজেন্টিস এর সিইও ক্রিস রিঞ্চ ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদের খুদ্রান্তে ইউরিলিথিন উৎপাদনের জন্য আমারা যা খাই তা ভাঙ্গার জন্য ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজন। যখন পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন পদার্থ উৎপন্ন হয় তখন তা আমাদের জন্য উপকারী হয়, প্রাকৃতিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া এই কাজটির সাথে জড়িত”।

রিঞ্চ আরো বলেন, ইউরিলিথিনের অগ্রদূত শুধু ডালিমেই নয় সামান্য পরিমাণে বাদাম ও জাম জাতীয় ফলেও পাওয়া যায়।