মেইন ম্যেনু

ডায়াবেটিসের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকার উপায়

স্নায়ু হচ্ছে শরীরের বার্তাবাহক। হাতের আঙ্গুল থেকে শুরু করে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত স্নায়ুই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে, সামান্য হাঁচি দেয়া থেকে শুরু করে হৃদস্পন্দন পর্যন্ত। কিন্তু কখনও কখনও ডায়াবেটিস এই জটিল নেটওয়ার্ককে ক্ষতিগ্রস্থ করে। গবেষকদের মতে এটি তখনই হয় যখন মাত্রাতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তনালীর দেয়ালকে ধ্বংস করে দেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ৬০-৭০% এর নার্ভ ড্যামেজের সমস্যাটি হয়ে থাকে। একে নিউরোপ্যাথি বলে। বিশেষজ্ঞদের মতে নিউরোপ্যাথি ও ডায়াবেটিসের অন্য জটিলতা কমানো সম্ভব গ্লুকোজ এর মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রেখে। ১৯৯৩ সালের এক গবেষণায় জানা যায় যে, রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ডায়াবেটিস রোগীদের নিউরোপ্যাথি হওয়ার ঝুঁকি ৬০% পর্যন্ত কমানো যায়। রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে জটিলতা কমানোর কয়েকটি উপায় জেনে নেই আসুন।

১। স্বাস্থ্যকর খাবার খান
আপনার টাইপ ১ অথবা টাইপ ২ যে ধরনেরই ডায়াবেটিস থাকুক না কেন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। সতর্কতার সাথে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কার্বোহাইড্রেট ব্লাড সুগারের উপর নাটকীয় প্রভাব ফেলতে পারে। একটি আদর্শ খাদ্য পরিকল্পনায় বিভিন্ন ধরণের রঙ্গিন সবজি ও ফল থাকে। সেইসাথে চর্বিহীন মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম ও শস্য অন্তর্ভুক্ত হয়।

২। ফিট থাকুন
স্বাস্থ্যকর খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এর ফলে রক্তের সুগার লেভেল ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এবং স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স যেমন- আপেল বা কলা রাখুন সাথে।

৩। চিকিৎসা ব্যবস্থা মেনে চলুন
আপনার চিকিৎসা পরিকল্পনা মেনে চলুন ও চিকিৎসক নির্দেশিত ঔষধগুলো সেবন করুন বা ইনসুলিন ইনজেকশন নিন। ইনসুলিন ইনজেকশন কখন ও কীভাবে নেবেন তা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন।

৪। গ্লুকোজের মাত্রা চেক করুন
নিয়মিত গ্লুকোজের মাত্রা চেক করুন। গ্লুকোজের মাত্রা জানা থাকলে আপনার প্রাত্যহিক যত্নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সহজ হবে।

৫। বছরে দুইবার A1c টেস্ট করান
A1c টেস্টের মাধ্যমে তিন মাসের অধিক সময়ের রক্তের গ্লুকোজ স্তরের মাত্রার গড় নির্ণয় ও সঠিক স্ন্যাপশট পাওয়া যায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে এবং রক্তের গ্লুকোজ স্তরের মাত্রা যদি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকে তাহলে বছরে দুইবার A1c টেস্ট করান উচিৎ। আর যদি ঔষধ পরিবর্তন করা হয় বা রক্তের গ্লুকোজ স্তরের মাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে প্রায়ই এই পরীক্ষাটি করতে হবে।

গবেষকেরা নিরন্তর চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিউরোপ্যাথি প্রতিরোধের নিমিত্তে ঔষধের উন্নতি সাধনের জন্য। সেই পর্যন্ত রক্তের গ্লুকোজ স্তরের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখেই স্নায়ুর ক্ষতি রোধ করতে হবে।