মেইন ম্যেনু

ডিজিটাল প্রেক্ষাগৃহ নেই চট্টগ্রামে

সাফাত জামিল শুভ, চট্টগ্রাম থেকে : “যেখানে দর্শেয় বা প্রদর্শেয় বস্তু বা বিষয় প্রেক্ষণ করা হয়। প্রকৃষ্টরকম অক্ষণ, ভালোভাবে দেখা। অক্ষি মানে চোখ, অক্ষণ মানে চোখ দিয়ে দেখা, অক্ষি প্রয়োগে দর্শন। উত্তমরূপে অক্ষণের নাম প্রেক্ষণ। প্রেক্ষণের কাজ যে গৃহে করা হয়, তার নাম ‘প্রেক্ষাগৃহ’।

১৯৯০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৭৬৭টি প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে ৫০টির বেশি ছিল বৃহত্তর চট্টগ্রামে।কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৫টি ঠিকমতো চলে কিনা সন্দেহ থেকে যায়।

১৯২৭ সালে চট্টগ্রামে প্রথম লায়ন সিনেমা হল নির্মাণের পর রঙ্গম, সিনেমা প্যালেস এবং ষাট দশকের শেষভাগে প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আলমাস সিনেমা হল চালু হয়। সেসময়ের প্রধান সিনেমা হলগুলো ছিল- নূপূর,জলসা,আলমাস,দিনার,উপহার,ঝুমুর,মেলোডি,লায়ন,পূরবী,উজালা,বনানী,সাগরিকা,সানাই,কর্ণফুলী,আকাশ,মহল,অলংকার,সংগীত,গুলশান ও রিদম। এছাড়া নৌবাহিনীর সিনেমা হল,বন্দরের নেভি হল,পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রনাধীন শাহীন হল,হালিশহরে বিডিআর হল এবং চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর গ্যারিসন সিনেমা হলে একসময় নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রর্দশিত হত।ঐতিহ্যবাহী এই সিনেমা হলগুলো দিনে দিনে জৌলুস হারালেও টিকে ছিলো কোনোরকম।

রাজধানী ঢাকায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকমানের বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ নির্মিত হয়েছে।অপরদিকে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে চট্টগ্রামের চলচ্চিত্র প্রদর্শন শিল্প। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা চলে- অশ্লীল ও নিম্নমানের সিনেমা, অনুন্নত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ,স্যানিটেশন সমস্যা, ভাঙা সিট, নিরাপত্তার অভাব, এনালগ প্রযুক্তি ইত্যাদি কারণে চট্টগ্রামের প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দর্শকরা। ফলস্বরুপ লোকসানের ভারে এখন চলছে হল ভাঙার প্রতিযোগিতা।

আধুনিক সুবিধা সম্বলিত সিনেপ্লেক্স ও বাংলা চলচ্চিত্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার অভাবেই মূলত চট্টগ্রামের দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহবিমুখ। ইদানিংকালে অবশ্য ভিন্নধারার বাংলা চলচ্চিত্র নির্মান ও প্রচারণার ফলে আগ্রহী হয়ে উঠছে সবাই। কিন্তু চট্টগ্রামে সত্যিকারের “ডিজিটাল প্রেক্ষাগৃহে’র দেখা মেলেনি আজও। নগরীর থিয়েটার ইনষ্টিটিউট মিলনায়তন দিয়ে একপ্রকার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চলচ্চিত্র প্রদর্শন।

পেশাজীবী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীসহ চট্টগ্রামের সংস্কৃতিপ্রেমী সকল মানুষের চাওয়া একটাই- ঢাকার মত বিশ্বমানের ডিজিটাল প্রেক্ষাগৃহ।এক্ষেত্রে উদ্যোগ তথা পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার,সিটি কর্পোরেশন কিংবা কোন শিল্পপতি। রাজধানী ঢাকা’র মত বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন দর্শকরা।