মেইন ম্যেনু

>>ফলোআপ:

ডিমলায় পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মৌসুমীর আত্মহননের অন্তরালে…

হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা (নীলফামারী) থেকে : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের দক্ষিন সোনাখুলি শালতলা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহননের অন্তরালে খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌসুমী আক্তার (১২) আত্মহত্যার শিকার হয়েছেন বলে প্রাথমিক খবরে উঠে এসেছে। ছাত্রীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে গত বুধবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে যেসব খবর পাওয়া যায় তা নিয়েই এ প্রতিবেদন।

মায়ের কাছে গাইড বই কিনে না নিয়েই “মৌসুমি” চলে গেছে অনেক দুরে। যাওয়ার আগে মাকে বলেছিল “মা তুমি কামে যাও আমি স্কুলে যামু”। যাওয়ার আগে “মৌসুমি” তার দু’টো হাতের তালু তার মা তারা বেগমকে দেখিয়ে বলেছিল “ পড়া না হলে স্কুলে আমাকে খুব মারে, মারের ফলে হাতে ফসকা পড়ে যায়”। স্কুলের পড়া দিতে হলে গাইড বই কিনে দেয়া লাগবেই। কথা গুলো বলেছিল শিশু ছাত্রী মৌসুমি। মা জানালেন, মৌসুমির বয়স যখন দু’ বছর তখন তার বাবা ঝুমুর আলীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

8855মৌসুমির মা তারা বানু

তারা বানু (৫৫) তার স্বামীর মৃত্যুর শোক ভুলতে না ভুলতেই এর কয়েক বছর পরেই নুর আলম নামে চৌদ্দ বছর বয়সী তার এক ছেলে উপজেলার চাপানী হাটে ট্রাকে চাপায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। তখন থেকেই নারী শ্রমিকের কাজ করে অভাবী সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে মৌসুমির মা তারা বানুকে। আবাদি জায়গা জমি বলতে তেমন কিছুই নেই। দিন মুজুরই হল পরিবারটির একমাত্র ভরসা। সরকারের বাধ্যতামুল্য প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পেয়ে মৌসুমিকে ভর্তি করে দিয়ে ছিলো স্কুলে। পড়া-লেখায় ভালো হলেও স্কুলে কোন দিন পড়া দিতে না পারলে স্কুলের শিক্ষকরা নির্মমভাবে তার দু’হাতের তালাতে বেত দিয়ে প্রচন্ড মারতো। মারের ফলে মৌসুমির হাতের তালায় ফসকা পড়ে যেত বলেও তার মা জানান। তাই স্কুলের পড়া বুঝায় দেয়ার জন্য মৌসুমি তার মায়ের কাছে কয়েক দিন আগে একটি গাইড বই আর এক সেট নতুন জামা-কাপড়ের বায়না ধরেছিল। কিন্তু কায়িক শ্রমিক মা এসব কিনে দিতে পারেনি।

গত মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকালের ঘটনা “মৌসুমি” তার দু’টো হাতের তালু তার মাকে দেখিয়ে বলেছিল “মা স্কুলে পড়া না হলে আমাকে খুব মারে, মারের ফলে হাতে ফসকা পড়ে যায়”। স্কুলের পড়া দিতে হলে গাইড বই কিনে দেয়া লাগবে। মা তাকে বলেছিল আমি কামে যামু আমার সাথে তুইও চল, কাম করে টাকা পামু ওই টাকা দিয়া তোর গাইড বই আর জামা কিনে দিমু। উত্তরে মৌসুমি তার মাকে বলেছিল, স্কুলে না গেলে পড়া নষ্ট হবে, তুমি কামে যাও আমি স্কুলে যামু।

এমন কথা শুনে মেয়েকে বাড়ীতে রেখে তিনি তিস্তা নদীর চরে অন্যের ভুট্টা ক্ষেতে নারী শ্রমিকের কাজ করতে যায় মা তারা বানু। ওখানেই তিনি খবর পান, মৌসুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি জানতে পারেন, মেয়ের আত্মহত্যার সময় নাকি তার বড় ছেলে বউ বাড়ীতে ছিলো। সেই নাকি ফাঁস থেকে মৃত মৌসুমীকে নামিয়ে মাটিতে রাখে।

361মৌসুমীর কবর স্থান

বুধবার বিকেলে ডিমলা উপজেলার দক্ষিন সোনাখুলি কুটিপাড়া গ্রামের ওই বাড়ীতে কথাগুলো জানিয়েছেন, আত্মহণনের শিকার মা তারা বানু। স্কুলে পড়া দিতে না পারলে নির্মম ভাবে মৌসুমির দু’ হাতের তালুতে বেত দিয়ে পিটানোর বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রেজিনা বেগম এ প্রতিবেদকের কাছে অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে মৌসুমির বড়ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেন। তবে কোন আপত্তি না থাকায় মৃত দেহের ময়না তদন্ত ছাড়াই বাবা ও ভাইয়ের কবরের পাশেই শিশু মৌসুমিকে কবর দেয়া হয়েছে।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল দাবী করেছেন, মৌসুমির আত্মহণনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।

আরো পড়ুনঃ

মায়ের কাছে খাতা-কলম চেয়ে না পেয়ে ডিমলায় ছাত্রীর আত্মহত্যা