মেইন ম্যেনু

ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই অসুস্থ্য : সমস্যায় জর্জরিত

হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা (নীলফামারী) থেকে: নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলাঢ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) টি এখন নিজেই রোগী হয়ে অসুস্থ্য হয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

আজ সোমবার সকালে সরজমিনে গিয়ে এমনটাই চোখে পড়লো। হাসপাতালের বাহিরে পরিস্কার পরিছন্ন থাকলেও ভিতরে একেবারেই অবস্থা বেহাল।

এ যেন দেখার কেউ নেই। ফলে রোগীদের দূর্ভোগ বেড়েই চলেছে অন্যদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র হত দরিদ্র রোগীরা। প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্চে নানা বিপর্যয়ে। চলতি মৌসুমে শীতে ঠান্ডা জনিত কারণে অনেকেই জ্বর, সর্দ্দি, কফ, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

আর এ চিকৎিসা সেবা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এ হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও ভর্তিকৃত রোগীরা সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। বঞ্চিত হচ্ছেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসাপাতালের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে।

হাসপাতালে গিয়ে চোখে পড়ে ভর্তি থাকা রোগীদের থাকার বেডগুলো নোংরা, বেড সিটগুলি যেন দিনের পর দিন মাসের পর মাস ধোঁয়া হয়নি। আর মেঝেতে ময়লা আবর্জনার গন্ধে নি:শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে রোগীদের।

ডিমলা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, উপজেলায় লোক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪’শ ৩৮ জন।

তিনি বলেন, উপজেলার অধিকাংশ মানুষেই সাবলম্বি থাকলেও গ্রামের মানুষের সংখ্যা ৮৫%। গ্রামের এসব দরিদ্র মানুষ দৈনিক শ্রম দিয়ে পারিশ্রমিক যা পায় তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিমে পড়েন। তাই তারা স্বাস্থ্যের দিকে তেমন একটা নজর দিতে পারে না।

এদের বেশি ভাগ মানুষেই কোন না কোন ভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আর এসব গ্রামের মানুষ রোগাক্রান্ত হলে প্রথমত গ্রাম্য হাতুরে ডাক্তারের কাছে ছুটে যায়। গ্রাম্য ডাক্তারদের কোন রকম প্রাথমিক চিকিৎসায় চিকিৎসায় রোগ সারিয়ে তুলতে না পারলে তারা ছুটে আসেন সরকারী এই হাসপাতালে।

এখানে এসেও তাদের নেই কোন স্বস্থি। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে মাহাবুর রহমান, মফিজার ইসলাম, আজিজার রহমান, ইসমতারা, সুফিয়া, অনুফা, শেখ আহম্মেদ, দেলোয়ার হোসেন এর সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের ঔষধ তেমন একটা পাওয়া যায় না।

বেশির ভাগ ঔষধেই বাহির থেকে কিনে আনতে হয়। কিনে আনার পরেও নার্সরা সঠিক সময়ে তা প্রয়োগ করেন না। তাদের ইচ্ছে খেয়াল খুশি মত ঔষধগুলি রোগীদেগর দেহে প্রয়োগ করেন। তাই রোগ সারতে একটু দেরী হয়।

কিছু দিন পূর্বে হাসপাতালের একমাত্র এক্সরে মেশিন চালু করা হলেও এখন সেটি পরিচালনা অভাবে সেটিও পড়ে আছে । আর কর্তৃপক্ষ বলছে সেটি অকেজো। বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো হাসপাতাল থাকে অন্ধকারে।

জেনারেটর থাকলেও সেটি চালু করতে দেখা যায় না তেমন একটা। টয়লেট গুলিও থাকে সারাক্ষন অপরিস্কার। এসব টয়লেটের দরজায় সামনে দাঁড়ালে দূর্গন্ধে নারি ভুরি বের হয়ে আসতে চায়। সরকারী সরবরাহকৃত গম্বল থাকলে তা কোথায় আছে কেউ জানেন না। রোগীদের গায়ে নেই কোন কম্বল।

রোগীরা জানায়,বাড়ী থেকে যা নিয়ে এসেছি সেগুলো দিয়েই রাত কাটাতে হয়। কম্বল কম্বল চাইলে নার্সরা বলে নাই। নার্সদের কাছে শীতবস্ত্র কম্বল সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানায়,হাসপাতালে একটিও কম্বল নেই।

ভর্তি রোগীদের এই করুন পরিনতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেবেকা সুলতানা বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না।

আপনারা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা জেড.এ. সিদ্দিকী মুটোফোনে বলেন, হাসপাতালে ১৫ জনের স্থলে নার্স রয়েছে ৪জন, ২১ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে ৯ জন, ৪ জন আয়ার স্থলে রয়েছে মাত্র ২ জন। তিনি আরও বলেন শীত নিবারণের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল রয়েছে ।

উল্লেখ্য, ডিমলা হাসপাতালের সকল সমস্যা দ্রুত নিরশন করে রোগীদের সু-চিকিৎসা ও সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল হাসপাতালে রুপান্তরিত করা হোক বলে এলাতার সচেতন মহল মনে করেন।



« (পূর্বের সংবাদ)