মেইন ম্যেনু

ডিসেম্বরেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পাওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। চলতি মাসের যেকোন দিনই ঘোষণা আসতে পারে পূর্ণাঙ্গ এ কমিটির। আর এ নিয়েই এখন শেষ মুহূর্তের জোর লবিং-তববির চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে চমক থাকছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এ বছরের ২৫ ও ২৬ জুলাই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইন দায়িত্ব নেন। এরপরই শোকাবহ আগস্ট মাসের মাসব্যাপী কর্মসূচি ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুড়িগ্রাম ও বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় দুই নেতা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরইমধ্যে ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ পুরাদমে এগিয়ে নিয়েছেন তারা। এ লক্ষে ইতোমধ্যোই সোহাগ-জাকির একাধিকবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সঙ্গে দেনদরবারও করেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও একাধিকবার সাক্ষাৎ করে ছাত্রলীগের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে এসেছেন। নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশনা।

ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া এখন প্রস্তুত। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ কয়েকদিন আগে চীন থেকে দেশে ফিরেছেন। তবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম এখনো থাইল্যান্ডে রয়েছেন। এ নেতার দেশে ফেরা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদারের অথবা হাইকমান্ডের সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলেই ঘোষণা করা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে শোনা যাচ্ছে চলতি মাসের ১৩ বা ১৫।

সূত্র আরো জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২৫১ সদস্যের হলেও এখনই সম্পূর্ণ কমিটি গঠন করতে অনাগ্রহী সোহাগ-জাকির। সেক্ষেত্রে ২০০ সদস্যের কমিটিও আসতে পারে।

এদিকে সম্মেলনের ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অনেকে হতাশাও ব্যক্ত করছেন। কেননা একাধিকবার কমিটি ঘোষণার আওয়াজ উঠলেও হালে তা পানি পায়নি। এবার আর হতাশ হতে চান না তারা। কর্মীদের বিশ্বাস ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

কমিটি পূর্ণাঙ্গের ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে। চলতি ডিসেম্বর মাসেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে।

শঙ্কার দোলাচল
এদিকে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজেদের মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে ছাত্রলীগের বিশাল একটি গ্রুপ। সদ্য সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহতের অনুসারী ছিল বিশাল এই গ্রুপটি। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকলেও কাউন্সিল কেন্দ্রীক গ্রুপিংয়ের মারপ্যাঁচে কোণঠাসা গ্রুপটি এখন নিজেদের অবস্থান, পদ, রাজনীতির সুযোগ নিয়ে আছেন শঙ্কায়।

তাদের চাওয়া, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলকেন্দ্রীক গ্রুপিংয়ের কথা ভুলে গিয়ে বিগত দিনের মাঠে সক্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন।