মেইন ম্যেনু

ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

ঢাকার রাজপথ শুধুই প্রাইভেটকারের দখলে

ঢাকার রাজপথ এখন শুধুই প্রাইভেটকারের দখলে। রাজধানীতে এই নিজস্ব পরিবহণটির ছড়াছড়িতে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। যার ভুক্তভোগী কেবলই সাধারণ মানুষ। রাজপথে প্রাইভেটকারের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে গণপরিবহন।

মূল সড়কের দুই তৃতীয়াংশ সবসময়ই দখলে থাকে প্রাইভেটকারের। স্বল্প মূল্যের জ্বালানি সুবিধা থাকায় উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তদের ‘শখে’ পরিণত হয়েছে প্রাইভেটকার। কিন্তু ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় প্রতি মাসে গড়ে দেড় হাজার প্রাইভেটকার ঢুকছে রাজধানীতে আর সৃষ্টি করছে তীব্র যানজটের।

গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার রাজপথ ছিল চিরচেনা সেই যানজটের কবলে। যার প্রভাব থেকে যায় মধ্যরাত পর্যন্ত। গত কয়েক বছর ধরেই রাজধানীর শাহবাগ হয়ে উঠেছে যানজটের চারণ ভূমি। প্রতিদিনই যার ভয়াবহতা তীব্রতর হচ্ছে। এখানে চতুর্মুখি ট্রাফিক সিগন্যালের জালে আটকে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। স্বাভাবিক অবস্থায় যেখানে ১০ মিনিটে যাওয়া যেত যেখানে এখন ২ ঘন্টায় পৌছানো হয়ে পড়েছে কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।

এ অবস্থায় যানজটের কারন নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখা যায়, পল্টন ও মৎস ভবন মোড় হয়ে শাহবাগের উপর দিয়ে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত এবং ফার্মগেইট থেকে কাওরান বাজার মোড় হয়ে শাহবাগের উপর দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত সড়ক গুলোতে দিনের অধিকাংশ সময়েই যানজট থাকে। আর যার প্রধান কারন হিসেবে উঠে এসেছে প্রতি ২০থেকে ২৫ টি প্রাভেটকারে একটি পাবলিক বাস। তাঁর উপরে আবার যত্রতত্র পার্কিং, যাত্রী উঠা নামা ও ভিআইপি সিগন্যালের আধিক্য।

এ অবস্থায় অধিকাংশ যাত্রী ও ভোক্তভোগী জনসাধারনের মধ্যে প্রাইভেটকারের প্রতিই বেশি ক্ষোভ দেখা যায়। তাদের দাবি, রাস্তায় এমনিতেই গণপরিবহণ কম। অনেক সময় দাঁড়িয়েও জায়গা পাওয়া যায় না। অথচ রাস্তার অধিকাংশ জায়গাই দখলে থাকে প্রাইভেটকারের। যা দিয়ে চলাফেরা করেন একজন কিংবা দুই জন মানুষ। রাজপথে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ করে গনপরিবহন বৃদ্ধি করলে এই ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মত সাধারণ মানুষের।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ অধিদফতর (বিআরটিএ) গত মাসের শেষের দিকে ঘোষণা দিয়েছিল যে রাজধানীতে যানজট নিরসনে প্রাইভেটকারে উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন রুট ও এ সব রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনের মধ্যেও সমন্বয় করবে। ধারাবাহিক ভাবে এই মাসেই কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও এখনো কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখাতে পারেনি ‘বিএরটিএ’।

বিএরটিএ’র তথ্যমতে রাজধানীতে নিবন্ধিত প্রাইভেটকারের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১৫টি, যেখানে সারা বাংলাদেশে রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৪টি। নগর পরিকল্পনা বিদদের মতে একটি আদর্শ নগরীতে ২৫ ভাগ রাস্তা থাকার কথা থাকলেও রাজধানী ঢাকাতে রয়েছে মাত্র ১০ ভাগ। যা একেবারেই অপ্রত্যুল কিন্তু তাঁর উপর অনিবন্ধিত ও অধিক যানবাহন এবং শৃঙ্খলার অভাবেই মানুষের ভোগান্তিকে প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে? জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘দেখুন অনেক সমস্যা মাথায় নিয়েই দায়িত্ব নিয়েছি। যানজট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ এগুলোই আমাদের প্রধান সমস্যা। সমাধানের জন্য সিটি কর্পোরেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলোকে সমন্বয় করে কাজ করতে বলেছি। আমি সর্বাত্তক ভাবে চেষ্টা করছি। আমি আশা করছি খুব শীগ্রই আমারা যানজট মুক্ত ঢাকা গড়তে পারব।’ এর জন্য গণমাধ্যমকেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও জানান তিনি।